ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঋণখেলাপিদের তথ্য চেয়ে ইসির চিঠি এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ঝালকাঠিতে ১৬০ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় সিসিটিভি শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর নোয়াখালীতে হাসপাতালের জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরি চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা, চাপে ইমরান খানের দল পিটিআই

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এ পদক্ষেপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগকে জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে পাকিস্তান সরকার। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে পিটিআই সমর্থকদের ইসলামাবাদমুখী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী দলের আন্দোলন—দুইয়ে মিলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সংবিধানের ধারায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪(১) ধারার অধীনে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে খাইবার পাখতুনখোয়ার নির্বাচিত প্রাদেশিক প্রশাসনের ক্ষমতা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও অ্যাডভোকেট জেনারেলের পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে জরুরি অবস্থা জারির সাংবিধানিক বৈধতা এবং এর ফলে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী মিছিল

এদিকে ইমরান খানের মুক্তি ও তাঁর যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে পিটিআই। ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ৪ অক্টোবর লাক্কি মারওয়াত থেকে মিছিল শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন জেলা পেরিয়ে সমর্থকেরা ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পিটিআইয়ের পরিকল্পনা ছিল রাজধানীতে পৌঁছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা। তবে ইসলামাবাদে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিপিং কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। সেই অচলাবস্থার মধ্যেই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’ বলছে পিটিআই

জরুরি অবস্থা জারির তীব্র সমালোচনা করেছে ইমরান খানের দল। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি এ পদক্ষেপকে ‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

বুখারির দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় দেশের একমাত্র বৈধভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তাঁর মতে, জরুরি অবস্থা জারির ফলে রক্তপাত, অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে আলোচনার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জঙ্গি হামলার যুক্তি তুলে ধরেছে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের প্রশাসনিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিতর্কও যুক্ত হয়েছে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা, নজর আলোচনার উদ্যোগে

পাকিস্তানে ইমরান খানের সমর্থকদের অতীতের কয়েকটি বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে একদিকে ইসলামাবাদমুখী পিটিআই সমর্থকদের আন্দোলন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত—দুইয়ের প্রভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এর সঙ্গে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি, কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এবং দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তা। তবে জরুরি অবস্থার সাংবিধানিক পরিধি, প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার প্রকৃত অবস্থা এবং আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা, চাপে ইমরান খানের দল পিটিআই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এ পদক্ষেপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগকে জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে পাকিস্তান সরকার। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে পিটিআই সমর্থকদের ইসলামাবাদমুখী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী দলের আন্দোলন—দুইয়ে মিলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সংবিধানের ধারায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪(১) ধারার অধীনে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে খাইবার পাখতুনখোয়ার নির্বাচিত প্রাদেশিক প্রশাসনের ক্ষমতা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও অ্যাডভোকেট জেনারেলের পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে জরুরি অবস্থা জারির সাংবিধানিক বৈধতা এবং এর ফলে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী মিছিল

এদিকে ইমরান খানের মুক্তি ও তাঁর যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে পিটিআই। ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ৪ অক্টোবর লাক্কি মারওয়াত থেকে মিছিল শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন জেলা পেরিয়ে সমর্থকেরা ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পিটিআইয়ের পরিকল্পনা ছিল রাজধানীতে পৌঁছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা। তবে ইসলামাবাদে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিপিং কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। সেই অচলাবস্থার মধ্যেই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’ বলছে পিটিআই

জরুরি অবস্থা জারির তীব্র সমালোচনা করেছে ইমরান খানের দল। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি এ পদক্ষেপকে ‘হাস্যকর সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

বুখারির দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় দেশের একমাত্র বৈধভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তাঁর মতে, জরুরি অবস্থা জারির ফলে রক্তপাত, অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে আলোচনার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জঙ্গি হামলার যুক্তি তুলে ধরেছে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের প্রশাসনিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিতর্কও যুক্ত হয়েছে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা, নজর আলোচনার উদ্যোগে

পাকিস্তানে ইমরান খানের সমর্থকদের অতীতের কয়েকটি বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে একদিকে ইসলামাবাদমুখী পিটিআই সমর্থকদের আন্দোলন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত—দুইয়ের প্রভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এর সঙ্গে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি, কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এবং দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তা। তবে জরুরি অবস্থার সাংবিধানিক পরিধি, প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার প্রকৃত অবস্থা এবং আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা জরুরি।