দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, মমতা-কেজরিওয়ালসহ একাধিক বিরোধী নেতা আটক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, পুলিশের ধরপাকড় ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা আগের কর্মসূচিতে অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন। এ কারণে এবার নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রশাসন।
শনিবারের এ কর্মসূচিতে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা ও তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শনিবার দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাকেত গোখেল, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল ও শামিরুল ইসলামকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
যন্তর মন্তরে কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড়
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে উল্লেখ করা সংগঠনটি। দিল্লি পুলিশের দাবি, আগের কর্মসূচিতে দেওয়া শর্ত মানা হয়নি। তাই এবার বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানান সংগঠনটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিণ্ডে। তিনি সমর্থকদের যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আগের রাতেই ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তিনি জানান, তিনি ও তাঁর দুই সহযোগী আটক থাকলে অজিঙ্ক শিণ্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতারাও আটক
বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দিল্লির লোধি এস্টেটের বাইরে থেকে আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং কেরলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিপিআই (এমএল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও বামনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) চার শতাধিক সদস্যকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর সদস্যদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়।
দিল্লির কনট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপির দাবি, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা
বিক্ষোভের সমালোচনা করে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা রাজধানীকে অচল করে দেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও বিক্ষোভের পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগীরা দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।
অন্যদিকে, আটক সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের অপরাধীদের মতো আটক করা হয়েছে। বিরোধী নেতারাও পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
পুলিশের খোলা চিঠি
বিক্ষোভের দিন সকালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ। চিঠিতে নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়। ইউনিফর্মের আড়ালেও পুলিশ সদস্যরা মানুষ এবং তাঁদেরও পরিবার রয়েছে—এ বিষয়টি উল্লেখ করে মানবিক আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড়ের মধ্যে বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তবে আটক নেতাদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
























