ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সার চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা, ব্যবস্থা চেয়ে হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিলের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজেকে ক্যান্সার চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল আলম সরওয়ার ওরফে ডা. এস এম সরওয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল।

কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত গত ২৪ আগস্টের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে ডা. সরওয়ারের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে প্রতিবেদন

কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্টে গত ১৩ আগস্ট ‘তালাশ’ অনুষ্ঠানের ৩০৯তম পর্বে ‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্সার রোগ নিরাময়সংক্রান্ত বক্তব্য ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কাউন্সিলের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রচারণার কারণে সাধারণ ও অসহায় রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ

কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রচলিত আইন এবং ওই আইনের ৩৬ ও ৩৭ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. সাইফুল আলম সরওয়ারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

একাধিক তদন্তের পরও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষ এর আগে একাধিকবার তদন্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তদন্তের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নও উঠেছে।

ফলে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বার্থে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষজ্ঞ সনদ, পেশাগত নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোনো ব্যক্তি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গবেষক হিসেবে পরিচয় দিলে তার দাবির পক্ষে থাকা যোগ্যতা ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক ও অনুমোদিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে কোনো চিকিৎসা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যবস্থা হবে কি?

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আগের তদন্তের বিষয়গুলো সামনে আসার পর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক।

কারণ, ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসাকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা প্রতারণার সুযোগ তৈরি হলে তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েন অসহায় রোগী ও তাদের পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ক্যান্সার চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা, ব্যবস্থা চেয়ে হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিলের চিঠি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজেকে ক্যান্সার চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল আলম সরওয়ার ওরফে ডা. এস এম সরওয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল।

কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত গত ২৪ আগস্টের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে ডা. সরওয়ারের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে প্রতিবেদন

কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্টে গত ১৩ আগস্ট ‘তালাশ’ অনুষ্ঠানের ৩০৯তম পর্বে ‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্সার রোগ নিরাময়সংক্রান্ত বক্তব্য ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কাউন্সিলের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রচারণার কারণে সাধারণ ও অসহায় রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ

কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রচলিত আইন এবং ওই আইনের ৩৬ ও ৩৭ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. সাইফুল আলম সরওয়ারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

একাধিক তদন্তের পরও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষ এর আগে একাধিকবার তদন্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তদন্তের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নও উঠেছে।

ফলে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বার্থে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষজ্ঞ সনদ, পেশাগত নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোনো ব্যক্তি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গবেষক হিসেবে পরিচয় দিলে তার দাবির পক্ষে থাকা যোগ্যতা ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক ও অনুমোদিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে কোনো চিকিৎসা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যবস্থা হবে কি?

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আগের তদন্তের বিষয়গুলো সামনে আসার পর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক।

কারণ, ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসাকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা প্রতারণার সুযোগ তৈরি হলে তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েন অসহায় রোগী ও তাদের পরিবার।