ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে, ফেরেননি কুবির ১৮ শিক্ষক ইলিশ বাংলাদেশের গর্ব, সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদার ছবি প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: দীনেশ ত্রিবেদী মহেশপুরে ড্রাগন বাগানে ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে’ কিশোরের মৃত্যু হামের সংক্রমণ কমার বদলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে, একদিনে আরও ৮ মৃত্যু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১ হাজার ৬০৮ জানুয়ারিতে নতুন বই, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম: শিক্ষামন্ত্রী অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেবে না বিএনপি সরকার : সালাউদ্দিন টুকু

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা

শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে, ফেরেননি কুবির ১৮ শিক্ষক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আর ফেরেননি ১৮ শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ১৫ শিক্ষকের কাছে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনা ছিল ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। বিভিন্ন সময়ে ৩ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৩ টাকা আদায় হলেও গত ২৪ আগস্টের হিসাবে অবশিষ্ট পাওনা দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর ও অর্থ ও হিসাব দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর চাকরি ছেড়েছেন মোট ৪৪ শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমান বিদেশ থেকে ফিরে ২০১৯ সালে কাজে যোগ দিলেও ২০২৩ সালে আবার চাকরি ছাড়েন। ফলে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে না ফেরার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।

নয় শিক্ষকের কাছে ১ কোটি ৭৭ লাখ

গত ২৪ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, নয় শিক্ষকের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলমের কাছে ৪১ লাখ ৯২ হাজার ৩০৮ টাকা, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেনের কাছে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬১৮ টাকা এবং আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকারের কাছে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা পাওনা দেখানো হয়।

এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. মো. মশিউর রহমানের কাছে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪ টাকা এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসনিমা আক্তারের কাছে ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪ টাকা পাওনা ছিল। তবে তাসনিমার বর্তমান বকেয়া ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৮ টাকা।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইনের মোট পাওনা ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা, যার মধ্যে বর্তমান বকেয়া ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা। ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদিয়া সারওয়ারের মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা, এর মধ্যে বকেয়া ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৮ টাকা।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমানের মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা, যার মধ্যে বকেয়া ১২ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা। পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপা রানী দাসের কাছে পাওনা ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬০২ টাকা।

তবে ২৪ আগস্টের হিসাবের পর আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকার তাঁর পুরো পাওনা পরিশোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নুরুল করিম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুদ মওকুফের আবেদন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা পরিশোধ করেন।

চার বছরে আদায় ৩ কোটি ৮ লাখ

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বলছে, ১৫ শিক্ষকের কাছে একসময় মোট পাওনা ছিল ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬১ লাখ ৯২ হাজার ১১৫ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৭ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৬১ হাজার ৯৭২ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৫৯ টাকা আদায় হয়েছে।

চার অর্থবছরে মোট আদায়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৩ টাকা।

এ ছাড়া ছয় শিক্ষক তাঁদের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৭ টাকা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসাইন ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯২ টাকা, আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফিদা হাসান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫২ টাকা, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদ শাহ ১৯ লাখ ৯১ হাজার ১৬৯ টাকা, লোকপ্রশাসনের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা হক ৪৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬১ টাকা এবং সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুল হাসান মজুমদার ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা পরিশোধ করেছেন। ছয়জনের কাছ থেকে মোট আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার ৬৯৪ টাকা।

কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ

পাওনা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কিস্তির সুযোগও দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেন জানান, তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক বছরের মধ্যে চার কিস্তিতে পাওনা পরিশোধের অনুমতি নিয়েছেন। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর পুরো অর্থ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলমও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাব নম্বর পেয়েছেন এবং শিগগিরই অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, পাওনা অর্থ আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বিধি রয়েছে। অর্থের পরিমাণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নুরুল করিম চৌধুরী জানান, পাওনা পরিশোধে কেউ রাজি না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামাল হোসাইন চৌধুরীসহ আরও পাঁচ শিক্ষককে পাওনা পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কুবির শিক্ষাছুটির নীতিমালায় বলা হয়েছে, পূর্ণ বেতনে শিক্ষাছুটি নেওয়া শিক্ষককে ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে ছুটির সমপরিমাণ সময় চাকরি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছেড়ে দিলে শিক্ষাছুটির সময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ব্যাংক সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে জামিনদারের কাছ থেকেও পাওনা আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সংখ্যা ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের হাতে রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা

শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে, ফেরেননি কুবির ১৮ শিক্ষক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আর ফেরেননি ১৮ শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ১৫ শিক্ষকের কাছে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনা ছিল ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। বিভিন্ন সময়ে ৩ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৩ টাকা আদায় হলেও গত ২৪ আগস্টের হিসাবে অবশিষ্ট পাওনা দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর ও অর্থ ও হিসাব দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর চাকরি ছেড়েছেন মোট ৪৪ শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমান বিদেশ থেকে ফিরে ২০১৯ সালে কাজে যোগ দিলেও ২০২৩ সালে আবার চাকরি ছাড়েন। ফলে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে না ফেরার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।

নয় শিক্ষকের কাছে ১ কোটি ৭৭ লাখ

গত ২৪ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, নয় শিক্ষকের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলমের কাছে ৪১ লাখ ৯২ হাজার ৩০৮ টাকা, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেনের কাছে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬১৮ টাকা এবং আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকারের কাছে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা পাওনা দেখানো হয়।

এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. মো. মশিউর রহমানের কাছে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪ টাকা এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসনিমা আক্তারের কাছে ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪ টাকা পাওনা ছিল। তবে তাসনিমার বর্তমান বকেয়া ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৮ টাকা।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইনের মোট পাওনা ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা, যার মধ্যে বর্তমান বকেয়া ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা। ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদিয়া সারওয়ারের মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা, এর মধ্যে বকেয়া ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৮ টাকা।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমানের মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা, যার মধ্যে বকেয়া ১২ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা। পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপা রানী দাসের কাছে পাওনা ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬০২ টাকা।

তবে ২৪ আগস্টের হিসাবের পর আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকার তাঁর পুরো পাওনা পরিশোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নুরুল করিম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুদ মওকুফের আবেদন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা পরিশোধ করেন।

চার বছরে আদায় ৩ কোটি ৮ লাখ

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বলছে, ১৫ শিক্ষকের কাছে একসময় মোট পাওনা ছিল ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬১ লাখ ৯২ হাজার ১১৫ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৭ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৬১ হাজার ৯৭২ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৫৯ টাকা আদায় হয়েছে।

চার অর্থবছরে মোট আদায়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৩ টাকা।

এ ছাড়া ছয় শিক্ষক তাঁদের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৭ টাকা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসাইন ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯২ টাকা, আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফিদা হাসান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫২ টাকা, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদ শাহ ১৯ লাখ ৯১ হাজার ১৬৯ টাকা, লোকপ্রশাসনের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা হক ৪৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬১ টাকা এবং সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুল হাসান মজুমদার ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা পরিশোধ করেছেন। ছয়জনের কাছ থেকে মোট আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার ৬৯৪ টাকা।

কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ

পাওনা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কিস্তির সুযোগও দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেন জানান, তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক বছরের মধ্যে চার কিস্তিতে পাওনা পরিশোধের অনুমতি নিয়েছেন। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর পুরো অর্থ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলমও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাব নম্বর পেয়েছেন এবং শিগগিরই অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, পাওনা অর্থ আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বিধি রয়েছে। অর্থের পরিমাণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নুরুল করিম চৌধুরী জানান, পাওনা পরিশোধে কেউ রাজি না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামাল হোসাইন চৌধুরীসহ আরও পাঁচ শিক্ষককে পাওনা পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কুবির শিক্ষাছুটির নীতিমালায় বলা হয়েছে, পূর্ণ বেতনে শিক্ষাছুটি নেওয়া শিক্ষককে ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে ছুটির সমপরিমাণ সময় চাকরি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছেড়ে দিলে শিক্ষাছুটির সময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ব্যাংক সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে জামিনদারের কাছ থেকেও পাওনা আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সংখ্যা ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের হাতে রাখা হয়েছে।