শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাঙ্গন গড়াই প্রধান লক্ষ্য: পবিপ্রবি উপাচার্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দুমকি প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে দুমকি উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে পবিপ্রবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শাখায় গিয়ে অফিস কার্যক্রম নিশ্চিত করছি। শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণায় উজ্জীবিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে পরিকল্পনা ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অটোমেশন চালু এবং গবেষণার ফলাফল দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য জানান, বর্তমানে পবিপ্রবিতে কৃষি, মাৎস্যবিজ্ঞান, ভেটেরিনারি, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইন ও ভূমি প্রশাসন, প্রকৌশল এবং সমুদ্রবিজ্ঞানসহ ১০টি অনুষদ চালু রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের সমন্বয়ে নতুন হেলথ সায়েন্স অনুষদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষে এ অনুষদে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, নতুন অনুষদটি দক্ষিণাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয় বিবেচনায় বরিশাল ও পটুয়াখালীতে টিউশনি এবং অন্যান্য কাজে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
এ ছাড়া পরিবহন, অর্থ ও হিসাব শাখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাগিংমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মাদক নিরোধের লক্ষ্যে আমরা প্রথমে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ভর্তি নিয়েছি। ভবিষ্যতে এটি শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। র্যাগিংমুক্ত হলের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে।’
ভালো গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ইতিবাচক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পবিপ্রবি ‘ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন ফর ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার’ (আইসিএফএসএ), মালয়েশিয়ার একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্বের ১৫টি দেশের ২০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিতাস নেগেরি পাদাংয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই করে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের থেমে থাকা নির্মাণকাজ চালু করতে ঠিকাদার ও নির্মাণকাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্মাণকাজগুলো দ্রুত এগিয়ে চলছে। কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা ও প্রকৌশল বিভাগের ওপর প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, মানুষের মধ্যে সাধারণত দুই ধরনের মানসিকতা দেখা যায়—ফিক্সড মাইন্ডসেট ও গ্রোথ মাইন্ডসেট। ফিক্সড মাইন্ডসেট মানুষকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও শেখার আগ্রহের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় পবিপ্রবির সঙ্গে আছি, শিক্ষার্থীদের পাশে আছি এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ক্যাম্পাস গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, প্রধান খামার তত্ত্বাবধায়ক কৃষিবিদ আরিফুর রহমান, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. রাহাত মাহমুদ, উপপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী-দুমকিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।























