শিশু কলি ধর্ষণ-হত্যা: আসামির বাড়িতে চার ঘণ্টা বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
পাবনার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মোস্তফা প্রামাণিকের বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনের বিভিন্ন অংশে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাঁদের কেউ কেউ বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ডিবিতে তদন্ত, পাঁচ দিনের রিমান্ড
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাঁদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তাঁরা অংশ নেন।
তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগগুলো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হবে।























