মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ, কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহ উদ্ধার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
যেভাবে মিলল মরদেহ
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এলাকায় তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার থেকে নিখোঁজ
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানান মা ড. নাহিদা বেগম। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটি তার পরনে ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাক করে অপ্রতীমের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। সম্ভবত ফোনটি তার সঙ্গে ছিল না। ফেসবুক আইডি যে ফোনে চালানো হতো, সেটিও বাসায় রেখে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বজনদের মধ্যে শোক
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তাঁর স্বজনরা।
অপ্রতীমের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।





















