আট দফা দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে: সরকারকে সতর্ক করলেন জামায়াত আমির

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত আট দফা দাবি পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় এক দফা দাবিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলগুলোর দাবিগুলো আট দফায় রয়েছে। প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা আরও বাড়তে পারে। তবে জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এসব দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। তাই সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে জনগণের দাবি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দাবি উপেক্ষা করে কোনো চাপ বা হুমকির মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন থামানো যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
‘জনগণের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি’
চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই কর্মসূচি সফল হওয়ায় অনেকের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের জনগণের দাবির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, এই কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক দাবি আদায়ের আন্দোলন নয়; বরং জনগণের দাবিকে সামনে রেখেই তারা মাঠে নেমেছেন।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রংপুরের লংমার্চকে ঘিরে দেশব্যাপী সাড়া তৈরি হয়েছে। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আট দফা দাবিতে যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি বিষয়
১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের ছয় দাবির সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জোটটির বর্তমান কর্মসূচিতে মোট আটটি দাবি রয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে জোটের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের দাবি।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
পরবর্তী কর্মসূচি
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রংপুরের পর খুলনা ও সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের উদ্বোধনী সমাবেশে জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






















