ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ এক কাঠামোয়, অভিন্ন সিলেবাসে সনদ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা বিরোধী দলের লংমার্চ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাঙ্গন গড়াই প্রধান লক্ষ্য: পবিপ্রবি উপাচার্য মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ, কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহ উদ্ধার নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, জুলাই থেকে বাড়তি বেতন কূটনৈতিক সম্পর্কের অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত দলিল ও সত্যকে ভুলবার সুযোগ নেই আট দফা দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে: সরকারকে সতর্ক করলেন জামায়াত আমির বিষপানে তিন শিশুর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক বাবা হাসপাতালে বিদেশি প্রতিপক্ষদের হারিয়ে ‘জেডএফসি ২’-এ দেশীয় ফাইটারদের জয়জয়কার

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে মাসে মোট ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এর বেশি সন্তান থাকলেও সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্যই ভাতা দেওয়া হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণসংক্রান্ত নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য এ ভাতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ভাতা

গেজেট অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা অনধিক দুই সন্তানের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতা পাবেন। কারও দুইয়ের বেশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলেও সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্যই এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ পাঠানো হবে। তবে একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত মিলবে সুবিধা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীর মা বা বাবা যত দিন চাকরিতে থাকবেন, তত দিন এই ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের স্বীকৃতি ও ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

কোনো সরকারি কর্মচারীর সন্তান প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলের মন্ত্রণালয় বা দপ্তর পালন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

আইবাসে যুক্ত হবে তথ্য

নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সুবিধা পাবেন। তবে বর্তমানে কতজন সরকারি চাকরিজীবীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তাঁরা জানান, ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত তথ্য অর্থ বিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার—আইবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সহায়তা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভাতা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা পরিবারগুলোর চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে সহায়তা করবে। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পেতে পারে।

আবেদন ও সনদের প্রক্রিয়া পরে নির্ধারণ

ভাতা পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কোন ধরনের সনদ বা নথি প্রয়োজন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ফলে গেজেটে ভাতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলেও তা পাওয়ার বিস্তারিত আবেদনপদ্ধতি ও যাচাইপ্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে মাসে মোট ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এর বেশি সন্তান থাকলেও সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্যই ভাতা দেওয়া হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণসংক্রান্ত নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য এ ভাতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ভাতা

গেজেট অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা অনধিক দুই সন্তানের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতা পাবেন। কারও দুইয়ের বেশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলেও সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্যই এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ পাঠানো হবে। তবে একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত মিলবে সুবিধা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীর মা বা বাবা যত দিন চাকরিতে থাকবেন, তত দিন এই ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের স্বীকৃতি ও ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

কোনো সরকারি কর্মচারীর সন্তান প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলের মন্ত্রণালয় বা দপ্তর পালন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

আইবাসে যুক্ত হবে তথ্য

নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সুবিধা পাবেন। তবে বর্তমানে কতজন সরকারি চাকরিজীবীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তাঁরা জানান, ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত তথ্য অর্থ বিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার—আইবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সহায়তা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভাতা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা পরিবারগুলোর চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে সহায়তা করবে। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পেতে পারে।

আবেদন ও সনদের প্রক্রিয়া পরে নির্ধারণ

ভাতা পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কোন ধরনের সনদ বা নথি প্রয়োজন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ফলে গেজেটে ভাতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলেও তা পাওয়ার বিস্তারিত আবেদনপদ্ধতি ও যাচাইপ্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করা হবে।