ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মেসির যোগাসন, রোনাল্ডোর লেবুর জল!

বয়স বাড়লেও তারুণ্য ধরে রেখেছেন যেভাবে তারকা ফুটবলাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল মানেই গতি, শক্তি আর তারুণ্যের লড়াই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে প্রমাণ মিলছে—বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯, ৪১ কিংবা ৪৩ বছর বয়সেও মাঠে দাপট দেখাচ্ছেন বিশ্বের সেরা কিছু ফুটবলার। দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসংখ্য ম্যাচ আর চোটের পরও কীভাবে নিজেদের ফিট রাখছেন তাঁরা, তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভক্তদের।

লিয়োনেল মেসি

৩৯ বছর বয়সেও লিয়োনেল মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে এখনো তাঁর গতি ও দক্ষতা ধরে রাখার পেছনে রয়েছে নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। মেসি নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন। উত্তনাসন, অধোমুখ শবাসন, কাকাসনের মতো যোগাভ্যাস তাঁর রুটিনের অংশ।

খাবারের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন আর্জেন্টাইন তারকা। চিনি ও ময়দা এড়িয়ে চলেন। ডায়েট সোডার বদলে ভেষজ চা পছন্দ করেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফিটনেস অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের কাছেও অনুপ্রেরণা। ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার ফুটবলে থাকা পর্তুগিজ তারকার শরীরচর্চার রুটিনও বেশ কঠোর।

রোনাল্ডো নিয়মিত পিলাটেজ করেন। পাশাপাশি সকালে লেবুর জল পান করেন বলে জানা যায়। পিলাটেজ শরীরের নমনীয়তা, শক্তি ও ভারসাম্য বাড়াতে সাহায্য করে।

লুকা মদ্রিচ

৪১ বছর বয়সেও ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচের মাঠের উপস্থিতি অসাধারণ। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারেও তাঁর গতি ও পেশিশক্তি ধরে রাখার রহস্য নিয়মিত স্ট্রেচিং ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং।

প্রতিদিন অনুশীলন বা ম্যাচের আগে ইলাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে শরীর প্রস্তুত করেন তিনি। মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখতে প্রাণায়ামও করেন।

ক্রেগ গর্ডন

স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন ৪৩ বছর বয়সেও মাঠে সক্রিয়। একাধিক গুরুতর চোটের পরও তিনি বারবার ফিরেছেন শক্তি নিয়ে।

কঠোর ডায়েটের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থেকে শক্তি নেন তিনি। পেশির জোর বাড়াতে ওজন তোলা ও প্লায়োমেট্রিক ব্যায়াম করেন।

ম্যানুয়েল নয়্যার

জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও বয়সকে হার মানিয়েছেন। পা ভাঙার মতো বড় চোটের পরও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন তিনি।

নয়্যার নিয়মিত ব্যালান্স ট্রেনিং করেন এবং মানসিক শক্তির জন্য মেডিটেশন করেন। মাছ, মুরগির মাংস, গ্রিন টি ও কলা তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে ফিট থাকার মূল রহস্য শুধু ব্যায়াম নয়—নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক প্রস্তুতি এবং নিয়মিত শরীরচর্চার সমন্বয়। আর সেটিই দেখিয়ে দিচ্ছেন ফুটবলের এই প্রবীণ তারকারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মেসির যোগাসন, রোনাল্ডোর লেবুর জল!

বয়স বাড়লেও তারুণ্য ধরে রেখেছেন যেভাবে তারকা ফুটবলাররা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ফুটবল মানেই গতি, শক্তি আর তারুণ্যের লড়াই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে প্রমাণ মিলছে—বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯, ৪১ কিংবা ৪৩ বছর বয়সেও মাঠে দাপট দেখাচ্ছেন বিশ্বের সেরা কিছু ফুটবলার। দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসংখ্য ম্যাচ আর চোটের পরও কীভাবে নিজেদের ফিট রাখছেন তাঁরা, তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভক্তদের।

লিয়োনেল মেসি

৩৯ বছর বয়সেও লিয়োনেল মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে এখনো তাঁর গতি ও দক্ষতা ধরে রাখার পেছনে রয়েছে নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। মেসি নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন। উত্তনাসন, অধোমুখ শবাসন, কাকাসনের মতো যোগাভ্যাস তাঁর রুটিনের অংশ।

খাবারের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন আর্জেন্টাইন তারকা। চিনি ও ময়দা এড়িয়ে চলেন। ডায়েট সোডার বদলে ভেষজ চা পছন্দ করেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফিটনেস অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের কাছেও অনুপ্রেরণা। ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার ফুটবলে থাকা পর্তুগিজ তারকার শরীরচর্চার রুটিনও বেশ কঠোর।

রোনাল্ডো নিয়মিত পিলাটেজ করেন। পাশাপাশি সকালে লেবুর জল পান করেন বলে জানা যায়। পিলাটেজ শরীরের নমনীয়তা, শক্তি ও ভারসাম্য বাড়াতে সাহায্য করে।

লুকা মদ্রিচ

৪১ বছর বয়সেও ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচের মাঠের উপস্থিতি অসাধারণ। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারেও তাঁর গতি ও পেশিশক্তি ধরে রাখার রহস্য নিয়মিত স্ট্রেচিং ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং।

প্রতিদিন অনুশীলন বা ম্যাচের আগে ইলাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে শরীর প্রস্তুত করেন তিনি। মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখতে প্রাণায়ামও করেন।

ক্রেগ গর্ডন

স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন ৪৩ বছর বয়সেও মাঠে সক্রিয়। একাধিক গুরুতর চোটের পরও তিনি বারবার ফিরেছেন শক্তি নিয়ে।

কঠোর ডায়েটের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থেকে শক্তি নেন তিনি। পেশির জোর বাড়াতে ওজন তোলা ও প্লায়োমেট্রিক ব্যায়াম করেন।

ম্যানুয়েল নয়্যার

জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও বয়সকে হার মানিয়েছেন। পা ভাঙার মতো বড় চোটের পরও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন তিনি।

নয়্যার নিয়মিত ব্যালান্স ট্রেনিং করেন এবং মানসিক শক্তির জন্য মেডিটেশন করেন। মাছ, মুরগির মাংস, গ্রিন টি ও কলা তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে ফিট থাকার মূল রহস্য শুধু ব্যায়াম নয়—নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক প্রস্তুতি এবং নিয়মিত শরীরচর্চার সমন্বয়। আর সেটিই দেখিয়ে দিচ্ছেন ফুটবলের এই প্রবীণ তারকারা।