কাঁদছে রামিসার সহপাঠীরাও
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সকালের সেই শ্রেণিকক্ষটিতে আজ আর কোনো কোলাহল নেই। নেই টিফিন ভাগাভাগি, নেই ছোট ছোট হাসির শব্দ। দ্বিতীয় শ্রেণির একটি বেঞ্চ আজ সারাক্ষণ শুধু মনে করিয়ে দিচ্ছে—রামিসা আর ফিরবে না।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা এবং দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ। দেশের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে, রাজপথে চলছে বিক্ষোভ। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি তৈরি হয় বৃহস্পতিবার সকালে, রামিসার স্কুলে।
‘পপুলার মডেল স্কুল’-এর সেই পরিচিত শ্রেণিকক্ষে পা রাখেন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। যে কক্ষে প্রতিদিন তার মেয়েটি ব্যাগ কাঁধে ছুটে আসত, বন্ধুদের পাশে বসে গল্প করত, খাতায় রঙিন অক্ষরে শুধু নিস্তব্ধতা।
শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মেয়ের সহপাঠীদের দেখেই নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তিনি। ছোট ছোট শিশুদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই শোকার্ত বাবা। তার বুকফাটা আর্তনাদ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো কক্ষে।
একসময় দেখা যায়, রামিসার সহপাঠীরাও কাঁদছে। কেউ চুপচাপ বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে আছে, কেউ আবার বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে চোখ মুছছে। এত ছোট বয়সেও তারা বুঝে গেছে, তাদের প্রিয় বান্ধবী আর কোনোদিন ক্লাসে ফিরবে না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কয়েকজন সহপাঠী বলছিল,
“রামিসা খুব ভালো ছিল।”
“ও আমাদের সঙ্গে খেলত।”
“আমরা ওকে ভুলব না।”
তারপরই ছোট ছোট কণ্ঠে উচ্চারিত হয় বড়দের মতো একটি দাবি—“খুনির ফাঁসি চাই।”
শিক্ষকরাও বাকরুদ্ধ। তারা বলছেন, রামিসা ছিল শান্ত, ভদ্র ও প্রাণবন্ত একটি শিশু। প্রতিদিন হাসিমুখে স্কুলে আসত। সেই শিশুটির এমন নিষ্ঠুর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
এদিকে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনেও জড়ো হন শত শত মানুষ। এলাকাবাসী, শিক্ষক, সহপাঠী, সামাজিক সংগঠন—সবাই নেমে আসেন প্রতিবাদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ আর শোকের ঢেউ।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ মানুষ পল্লবী থানার সামনেও অবস্থান নেয়। তাদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার যে নৃশংস ঘটনার খবর সামনে আসে, তা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একই ভবনের বাসিন্দা সোহেল রানা প্রলোভন দেখিয়ে রামিসাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপনের জন্য দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়।
পুলিশ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে খাটের নিচ থেকে রামিসার দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সে অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। সেখানে বক্তারা বলেন, “রামিসা শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, সে পুরো বাংলাদেশের মেয়ে।”
























