ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিসেবা মেলায় ৯ বুথে মিলল তাৎক্ষণিক সেবা, সন্তুষ্ট নাগরিকরা

রাজশাহী ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় নয়টি সহায়তা বুথের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় এক হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন।

দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের সংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ এবং মৌজাম্যাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

মেলার বিভিন্ন বুথে ঘুরে দেখা যায়, ই-নামজারি সেবা বুথে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। কর্মকর্তারা সরাসরি সহায়তা করে অনেকের অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করে দেন। খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ বুথ থেকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পান সেবাগ্রহীতারা।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ বুথেও ছিল ব্যাপক সাড়া। অনলাইনে খাজনা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি ও তাৎক্ষণিক সহায়তার মাধ্যমে অনেকেই সহজে বকেয়া কর পরিশোধ করতে সক্ষম হন।

এছাড়া সেটেলমেন্ট অফিসের বুথ থেকে বিডিএস জরিপ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ ও বিভাগীয় প্রশাসনের বিশেষ হটলাইন সম্পর্কেও জানানো হয়। পাশাপাশি ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ করা হয়।

সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতায়ও উঠে আসে সন্তুষ্টির চিত্র। শিরোইল কলোনির তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “এখন ভূমি অফিসের সেবা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।” বড়কুঠি এলাকার হাসমত আলী জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।

ফুদকিপাড়ার ভূপতি রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অল্প সময়েই তিনি অনলাইনে খাজনা পরিশোধের অনুমোদন পেয়েছেন। পবার জেসমিন আরা জানান, কর্মকর্তাদের আন্তরিক আচরণে তিনি সন্তুষ্ট।

মেলায় স্থাপিত নয়টি বুথের মধ্যে সেবার মান ও দক্ষতার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস এবং তৃতীয় স্থান পায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, “সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা আরও কার্যকর করতে তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় জেলা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভূমিসেবা মেলায় ৯ বুথে মিলল তাৎক্ষণিক সেবা, সন্তুষ্ট নাগরিকরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় নয়টি সহায়তা বুথের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় এক হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন।

দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের সংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ এবং মৌজাম্যাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

মেলার বিভিন্ন বুথে ঘুরে দেখা যায়, ই-নামজারি সেবা বুথে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। কর্মকর্তারা সরাসরি সহায়তা করে অনেকের অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করে দেন। খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ বুথ থেকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পান সেবাগ্রহীতারা।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ বুথেও ছিল ব্যাপক সাড়া। অনলাইনে খাজনা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি ও তাৎক্ষণিক সহায়তার মাধ্যমে অনেকেই সহজে বকেয়া কর পরিশোধ করতে সক্ষম হন।

এছাড়া সেটেলমেন্ট অফিসের বুথ থেকে বিডিএস জরিপ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ ও বিভাগীয় প্রশাসনের বিশেষ হটলাইন সম্পর্কেও জানানো হয়। পাশাপাশি ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ করা হয়।

সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতায়ও উঠে আসে সন্তুষ্টির চিত্র। শিরোইল কলোনির তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “এখন ভূমি অফিসের সেবা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।” বড়কুঠি এলাকার হাসমত আলী জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।

ফুদকিপাড়ার ভূপতি রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অল্প সময়েই তিনি অনলাইনে খাজনা পরিশোধের অনুমোদন পেয়েছেন। পবার জেসমিন আরা জানান, কর্মকর্তাদের আন্তরিক আচরণে তিনি সন্তুষ্ট।

মেলায় স্থাপিত নয়টি বুথের মধ্যে সেবার মান ও দক্ষতার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস এবং তৃতীয় স্থান পায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, “সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা আরও কার্যকর করতে তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় জেলা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।