ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিষাক্ত গ্যাসেই মৃত্যু চার ভাইয়ের

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওমানে চার বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে দেশটির পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির এক্সহস্ট থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর আবদ্ধ গাড়ির ভেতরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকতে সতর্কতা জারি করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ।

দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ওমান-এর বরাতে জানা যায়, নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমান-এর নেতারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাঁদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে অসুস্থতার কথা জানান। তিনি বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থাও তাঁদের নেই এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে একই ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও চট্টগ্রাম সমিতি ওমান প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

এদিকে নিহত চার ভাইয়ের মা খাদিজা বেগমকে এখনো তাঁদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে জানেন তাঁর ছেলেরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শোক সহ্য করতে পারবেন না আশঙ্কায় তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।

শুক্রবার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সহযোগিতার কথা জানান।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় গাড়ি দুর্ঘটনা না থাকায় ওমান সরকার ব্যয়ভার বহন করবে না; স্বজন ও প্রবাসী সংগঠন যৌথভাবে খরচ বহন করবে।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, আবদ্ধ গাড়ির ভেতরে ঘুমানো প্রাণঘাতী হতে পারে এবং এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিষাক্ত গ্যাসেই মৃত্যু চার ভাইয়ের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ওমানে চার বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে দেশটির পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির এক্সহস্ট থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর আবদ্ধ গাড়ির ভেতরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকতে সতর্কতা জারি করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ।

দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ওমান-এর বরাতে জানা যায়, নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমান-এর নেতারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাঁদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে অসুস্থতার কথা জানান। তিনি বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থাও তাঁদের নেই এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে একই ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও চট্টগ্রাম সমিতি ওমান প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

এদিকে নিহত চার ভাইয়ের মা খাদিজা বেগমকে এখনো তাঁদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে জানেন তাঁর ছেলেরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শোক সহ্য করতে পারবেন না আশঙ্কায় তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।

শুক্রবার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সহযোগিতার কথা জানান।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় গাড়ি দুর্ঘটনা না থাকায় ওমান সরকার ব্যয়ভার বহন করবে না; স্বজন ও প্রবাসী সংগঠন যৌথভাবে খরচ বহন করবে।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, আবদ্ধ গাড়ির ভেতরে ঘুমানো প্রাণঘাতী হতে পারে এবং এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।