দাবি আদায় না হলে রেলপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি, ফুলবাড়ী স্টেশনে মানববন্ধন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন, নতুন ভবন নির্মাণ এবং আন্তঃনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ও ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধ এবং স্টেশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়ী রেলস্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী স্টেশনটি ব্যবহার করলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মানিক মণ্ডল, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, এনসিপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
মানববন্ধনে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস কক্ষ নির্মাণ, ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু, ডিজিটাল টিকিটিং ও নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে ফুলবাড়ী স্টেশনকে আঞ্চলিক রেল হাবে উন্নীত করা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ আন্তঃনগর ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে এলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, মধ্যপাড়া পাথর খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই স্টেশন ব্যবহার করেন। পাশাপাশি পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জের অনেক যাত্রীও ফুলবাড়ী স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল।
তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় রাজস্ব আয়ও কমছে। এছাড়া স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম সেড ও বাউন্ডারি ওয়ালের অভাবে বর্ষাকালে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী স্টেশন দিয়ে আপ ও ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২২টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। তবে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি নেই এখানে। স্টেশনটি থেকে বছরে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয় বলেও জানানো হয়েছে।




















