ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ: গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অটোরিকশায় জোরপূর্বক অপহরণ করে দিনভর ধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সমাসপাড়া এলাকায় এ পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে একইদিন বিকেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়দের সহোযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার আগে ফুটানী বাজার এলাকার আখ সেন্টারের পাশের সড়কের পাশে থেকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহিদ জিয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, স্থানীয় তালতলা হাইস্কুলের ওই ছাত্রী সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সমাসপাড়া এলাকার একটি ট্রান্সফরমারের নিচ থেকে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। দুর্বৃত্তরা তাকে পাশের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুটানী বাজার এলাকার কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দিনভর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে বিকেল নাগাদ ওই শিক্ষার্থীকে ‘আঁখ সেন্টারের’ পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ডাক্তার বলেছে, ‘তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে।’ আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত্রীকালীন ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. ফাহাদ আল আসাদ জানান, ‘সন্ধ্যা ৬টায় দায়িত্বরত চিকিৎসক সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্টের শিকার শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন।’
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা নিয়ে পরিবারটি বর্তমানে ব্যস্ত আছে। আগামীকাল তারা এসে অভিযোগ দিলেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।






















