ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্ররাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ছাত্ররাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, কমিটি গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। অনেক জায়গায় তা রূপ নিচ্ছে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ভাঙচুরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আলোচনা শুধু পড়াশোনা ঘিরে নয়—কে কোন অবস্থানে, কে কোন শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নিয়েও চলছে জোর বিতর্ক।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতির প্রভাব ছাত্ররাজনীতিতে পড়াটা নতুন কিছু নয়। তবে যখন সেটি সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন শিক্ষার পরিবেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় “গুপ্ত রাজনীতি” ও একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেন। পরে সেখানে Bangladesh Islami Chhatra Shibir-এর নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কয়েকজন নেতা আশ্রয়ের জন্য শাহবাগ থানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় Mussaddiq-এর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি A B Zubayerসহ কয়েকজন নেতা থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

ডাকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী Abdullah Al Mahmud এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য Syeduzzaman Alvi-ও ওই সময় থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করতে এসেছিল ছাত্রদল। পরে খবর পেয়ে থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

হামলার ঘটনার পর খবর পেয়ে শাহবাগ থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ উভয়-পক্ষের কথোপকথনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিন করে।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, একটি ফেইক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ছাত্রদল। যাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তিনি শাহবাগ থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে আসলে ছাত্রদলের নেতৃত্বে হামলা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ছাত্রদল সভাপতির দুঃখপ্রকাশ: শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আজকে হয়েছে—আমি প্রথমেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু সেই সাথে আমাদের যে সহযোদ্ধা চারজন ভাই রয়েছে যারা আহত হয়েছে তাদের নিকট বিনীত অনুরোধ, তারা যেন এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা মব হতে পারে সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না করে।

আরও বলেন, স্ট্যাটাস দিয়ে তারা শাহবাগ থানায় পাঁচজন এসেছে। আপনাদের স্ট্যাটাস দিয়েছেন, কিন্তু সবাইকে নিয়েই আসতেন। কারণ আপনাদের অন্যান্য যারা রয়েছে তাদের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের সাথে কোনো কথা না বলে সরাসরি শাহবাগ থানায় এসেছে।

কুমিল্লায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ : কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, কোটবাড়ি এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের বিচার চাইতে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হচ্ছে বলে জানান। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে ছাত্রশিবির। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষেই হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। তারা জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে, গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে ।

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ জানান, বিকেলে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে হলের দুই শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ জানান, সারাদেশে ছাত্রদলের গুপ্ত লেখার কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচি চলার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মী নাফিস আব্দুল্লাহকে ছাত্রদলের ছেলেরা মারধর করে। অধ্যক্ষের কাছে মারধরের ভিডিও চাইতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করে। আহত কয়েকজন কুমিল্লা মেডিকেলেজে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় পলিটেকনিক্যাল ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারি দুজনই আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুইপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছাত্ররাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ছাত্ররাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, কমিটি গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। অনেক জায়গায় তা রূপ নিচ্ছে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ভাঙচুরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আলোচনা শুধু পড়াশোনা ঘিরে নয়—কে কোন অবস্থানে, কে কোন শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নিয়েও চলছে জোর বিতর্ক।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতির প্রভাব ছাত্ররাজনীতিতে পড়াটা নতুন কিছু নয়। তবে যখন সেটি সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন শিক্ষার পরিবেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় “গুপ্ত রাজনীতি” ও একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেন। পরে সেখানে Bangladesh Islami Chhatra Shibir-এর নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কয়েকজন নেতা আশ্রয়ের জন্য শাহবাগ থানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় Mussaddiq-এর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি A B Zubayerসহ কয়েকজন নেতা থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

ডাকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী Abdullah Al Mahmud এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য Syeduzzaman Alvi-ও ওই সময় থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করতে এসেছিল ছাত্রদল। পরে খবর পেয়ে থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

হামলার ঘটনার পর খবর পেয়ে শাহবাগ থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ উভয়-পক্ষের কথোপকথনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিন করে।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, একটি ফেইক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ছাত্রদল। যাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তিনি শাহবাগ থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে আসলে ছাত্রদলের নেতৃত্বে হামলা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ছাত্রদল সভাপতির দুঃখপ্রকাশ: শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আজকে হয়েছে—আমি প্রথমেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু সেই সাথে আমাদের যে সহযোদ্ধা চারজন ভাই রয়েছে যারা আহত হয়েছে তাদের নিকট বিনীত অনুরোধ, তারা যেন এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা মব হতে পারে সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না করে।

আরও বলেন, স্ট্যাটাস দিয়ে তারা শাহবাগ থানায় পাঁচজন এসেছে। আপনাদের স্ট্যাটাস দিয়েছেন, কিন্তু সবাইকে নিয়েই আসতেন। কারণ আপনাদের অন্যান্য যারা রয়েছে তাদের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের সাথে কোনো কথা না বলে সরাসরি শাহবাগ থানায় এসেছে।

কুমিল্লায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ : কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, কোটবাড়ি এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের বিচার চাইতে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হচ্ছে বলে জানান। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে ছাত্রশিবির। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষেই হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। তারা জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে, গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে ।

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ জানান, বিকেলে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে হলের দুই শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ জানান, সারাদেশে ছাত্রদলের গুপ্ত লেখার কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচি চলার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মী নাফিস আব্দুল্লাহকে ছাত্রদলের ছেলেরা মারধর করে। অধ্যক্ষের কাছে মারধরের ভিডিও চাইতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করে। আহত কয়েকজন কুমিল্লা মেডিকেলেজে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় পলিটেকনিক্যাল ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারি দুজনই আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুইপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত আছে।