দ্বিতীয় দিনে পরীক্ষা দেয়নি ২৭ হাজার শিক্ষার্থী
এসএসসি পরীক্ষায় বাড়ছে অনুপস্থিতির হার, উদ্বেগে শিক্ষাবিদরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষা খাতে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে। এতে পরীক্ষার সামগ্রিক অংশগ্রহণ হার কমে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, অনুপস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে— যেমন মানসিক চাপ, অপ্রস্তুতি, কোচিং নির্ভরতা, পারিবারিক সমস্যা এবং কিছু ক্ষেত্রে অসুস্থতা।
তারা বলছেন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ শিক্ষার মান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দিনে সারা দেশে ১৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রথম দিনে এ সংখ্যা ছিল ৬ জন। ফলে একদিনের ব্যবধানে বহিষ্কার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ১৮ হাজার ৭৬৪ জন। এর মধ্যে অংশ নেয় ১১ লাখ ৬ হাজার ৪৪৮ জন এবং অনুপস্থিত থাকে ১২ হাজার ৩১৬ জন।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ও যশোর বোর্ডে দুজন করে চারজন এবং চট্টগ্রাম ও দিনাজপুর বোর্ডে একজন করে মোট ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে Dakhil Examination-এ আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১২ হাজার ১৫০ জন। এ বোর্ডে তিনজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে SSC Vocational Examination ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩৯৯ জন। ইংরেজি-২ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ১৬০ জন, এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৬১ জন উপস্থিত ছিল। এ বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, অনুপস্থিতি ও বহিষ্কারের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুপস্থিতির কারণ শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।





















