ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

হামের পর বাড়ছে নিউমোনিয়া, আক্রান্ত হচ্ছে শিশুদের চোখ-কান

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাম উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। তবে এসব শিশুর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়াসহ ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, অপুষ্টি ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা।

চিকিৎসকরা জানান, হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেক শিশু নতুন করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এছাড়া ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের সংক্রমণসহ কান পাকা, অপুষ্টি ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর ও উপজেলা মিলে ৪১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু হা্সপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৪১২ জন, নতুন ভর্তি ৪১ জন।

সোমবার ( ২০ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ৪৩৬ জন এবং ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৩ জন শিশুকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. ধীমান চৌধুরী বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের হামকালীন সময় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এসব জটিলতা হাম ভালো হওয়ার পরও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুরা আগে থেকেই অন্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল, তারাই হামকালীন ও হাম-পরবর্তী নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে রোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আগে থেকেই অসুস্থ শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হাম ভালো হওয়ার পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—মুখের ঘা (ওরাল আলসার) শিশুদের বেশি ভোগাচ্ছে। এছাড়া নিউমোনিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সংক্রমণ বাড়ছে।

অপরদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বাসনা মহুরী বলেন, ‘বর্তমানে যে নিউমোনিয়ার রোগীরা আসছে, তাদের অনেকেই আগে হামে আক্রান্ত ছিল। অর্থাৎ হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শিশুকে নিবিড় যত্নে রাখতে হবে নির্ধারিত সময়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। হাম এখন শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়, এর পরবর্তী জটিলতাই হয়ে উঠছে বড় হুমকি। যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতা ছাড়া শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রাম

হামের পর বাড়ছে নিউমোনিয়া, আক্রান্ত হচ্ছে শিশুদের চোখ-কান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

হাম উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। তবে এসব শিশুর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়াসহ ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, অপুষ্টি ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা।

চিকিৎসকরা জানান, হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেক শিশু নতুন করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এছাড়া ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের সংক্রমণসহ কান পাকা, অপুষ্টি ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছে শিশুরা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর ও উপজেলা মিলে ৪১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু হা্সপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৪১২ জন, নতুন ভর্তি ৪১ জন।

সোমবার ( ২০ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ৪৩৬ জন এবং ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৩ জন শিশুকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. ধীমান চৌধুরী বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের হামকালীন সময় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এসব জটিলতা হাম ভালো হওয়ার পরও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুরা আগে থেকেই অন্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল, তারাই হামকালীন ও হাম-পরবর্তী নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে রোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আগে থেকেই অসুস্থ শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হাম ভালো হওয়ার পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—মুখের ঘা (ওরাল আলসার) শিশুদের বেশি ভোগাচ্ছে। এছাড়া নিউমোনিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সংক্রমণ বাড়ছে।

অপরদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বাসনা মহুরী বলেন, ‘বর্তমানে যে নিউমোনিয়ার রোগীরা আসছে, তাদের অনেকেই আগে হামে আক্রান্ত ছিল। অর্থাৎ হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শিশুকে নিবিড় যত্নে রাখতে হবে নির্ধারিত সময়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। হাম এখন শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়, এর পরবর্তী জটিলতাই হয়ে উঠছে বড় হুমকি। যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতা ছাড়া শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।’