ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতভর অপেক্ষার পর সন্তানসহ মুক্তি পেলেন শিল্পী বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোরের আলো যখন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের দেয়ালে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করে, তখন ভেতরের এক ছোট্ট ঘরে অপেক্ষার সময় যেন আরও দীর্ঘ হয়ে যায়।

শিল্পী বেগম—যুব মহিলা লীগ নেত্রী, যিনি একদিন আগে একই মামলায় কারাগারে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান সন্তানসহ।

কারা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে বিচারকের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাতেই না পৌঁছানোয় সেই রাতটা তাকে কাটাতে হয় কারাগারের ভেতরেই—তার দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান-কে কোলে নিয়েই।

রাতের সেই অপেক্ষা ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু ভারী। মা আর শিশুর জন্য সময় যেন থমকে ছিল লোহার দেয়ালের ভেতর।

পরদিন সকালে যখন নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয় এবং কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছে যায়, তখন শুরু হয় মুক্তির প্রক্রিয়া। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরের আগেই তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

কারা জেলার শিরিন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তির মুহূর্তে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল না ভিড়ের উত্তেজনা। ছিল শুধু একজন মায়ের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো স্বস্তি—আর তার কোলে ঘুমন্ত এক শিশু, যে জানে না এই কয়েক দিনের ভেতর তার জীবন কতটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে।

আদালতের কাগজ, আইনের ধারা আর মামলার জটিলতা—সবকিছুর বাইরে সেই দৃশ্যটি শুধু একটাই কথা বলে: কখনও কখনও বিচার শুধু রায় নয়, অপেক্ষার সময়টাও মানুষের জীবনকে বদলে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাতভর অপেক্ষার পর সন্তানসহ মুক্তি পেলেন শিল্পী বেগম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ভোরের আলো যখন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের দেয়ালে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করে, তখন ভেতরের এক ছোট্ট ঘরে অপেক্ষার সময় যেন আরও দীর্ঘ হয়ে যায়।

শিল্পী বেগম—যুব মহিলা লীগ নেত্রী, যিনি একদিন আগে একই মামলায় কারাগারে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান সন্তানসহ।

কারা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে বিচারকের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাতেই না পৌঁছানোয় সেই রাতটা তাকে কাটাতে হয় কারাগারের ভেতরেই—তার দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান-কে কোলে নিয়েই।

রাতের সেই অপেক্ষা ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু ভারী। মা আর শিশুর জন্য সময় যেন থমকে ছিল লোহার দেয়ালের ভেতর।

পরদিন সকালে যখন নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয় এবং কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছে যায়, তখন শুরু হয় মুক্তির প্রক্রিয়া। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরের আগেই তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

কারা জেলার শিরিন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তির মুহূর্তে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল না ভিড়ের উত্তেজনা। ছিল শুধু একজন মায়ের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার মতো স্বস্তি—আর তার কোলে ঘুমন্ত এক শিশু, যে জানে না এই কয়েক দিনের ভেতর তার জীবন কতটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে।

আদালতের কাগজ, আইনের ধারা আর মামলার জটিলতা—সবকিছুর বাইরে সেই দৃশ্যটি শুধু একটাই কথা বলে: কখনও কখনও বিচার শুধু রায় নয়, অপেক্ষার সময়টাও মানুষের জীবনকে বদলে দেয়।