ভুয়া বিলের খেলায় কোটি টাকা? অনিয়মের জালে প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকারের বিরুদ্ধে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাগজপত্রে অতিরিক্ত ও অপ্রকৃত ব্যয় দেখিয়ে বরাদ্দের একটি অংশ উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এমনকি টেন্ডার আহ্বান ও কোন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ না করে গোপনে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে নিজস্ব ঠিকাদারের লাইসেন্সের নামে কাজ নিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিজেই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নামে চলে লুটপাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ের বাস্তব কার্যক্রমের সঙ্গে বিল ও ভাউচারের মিল না থাকায় প্রকল্পের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ ও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকার। একাধিক খাতে একই ধরনের ব্যয় দেখানো এবং প্রকৃত কাজের অগ্রগতির তুলনায় অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকার।
বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রচলিত, অপ্রচলিত এবং অন্যান্য দেশি-বিদেশি সম্ভাবনায় সব ধরনের ফলের চাষাবাদ বাড়িয়ে সারাবছর সমানভাবে ফলের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনিয়মের কারণে ভেস্তে গেছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় দেশি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে চাষযোগ্য বিভিন্ন বিদেশি ফলের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয় দপ্তরটি। তবে এই মাধ্যম্যেও হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। যা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে থাকে। কিন্তু কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও এর বড় অংশই লোপাট হয়ে যায়। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকারের বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেয়ার পর দুই হাতে প্রকল্পের টাকা তসরুফ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপকরণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রণোদনা প্রদানে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকার। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কৃষকরা।
এসব বিষয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জনগণের প্রকৃত কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম – দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, যে সকল প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযোগ উঠার পর নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশ (দুদক)। নথিপত্র যাচাই, হিসাব নিরীক্ষা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যালোচনার মাধ্যমে অনিয়মের পরিমাণ ও দায়ীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য না করে প্রতিবেদককে বার বার অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার্দী জুয়েল সরকারের আরও অনিয় ও দুর্নীতির খবর থাকছে পরের প্রতিবেদনে।
























