জামালপুরে বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বর্ষবরণ অনুষ্ঠান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে বর্ণ্যাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও পরিবেশনের সুযোগ না পাওয়ায় ও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ায় আগেই বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে যন্ত্রীরা মঞ্চ ত্যাগ করায় দুইটি সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতি কর্মীরা।
পহেলা বৈশাখে জামালপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের বকুলতলা চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে। পরে সেখানে জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমীর আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জেলা শিশু একাডেমী ছাড়াও জেলার ৮টি প্রতিভাবান সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সংগঠনগুলো হলো- উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠন, মনিমেলা খেলাঘর আসর, জামালপুর লালন একাডেমী, বর্ণালী, লোকজ, সড়ঙ্গ ও ধ্রুবতারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একে একে বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে এসে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। শিশু-কিশোর সংগঠন নবাঙ্কুরের শিশু শিল্পীরা শোভাযাত্রা শেষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য বসে ছিলো।
ইতিমধ্যে তালিকায় নাম থাকা মনিমেলা খেলাঘর আসর তাদের পরিবেশনা শেষ করে এবং শিশু-কিশোর শিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে উঠে আরেক সংগঠন বর্ণালী। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত বসে থাকায় শিশু শিল্পীদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। এ সময় নাবাঙ্কুর সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কোন সময় তাদের পরিবেশনা হবে সেটি জানাতে চাওয়া হয়। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষ কোন সংগঠনের পরে কোন সংগঠন মঞ্চে আসবে, সংগঠনের তালিকা প্রদর্শণ বা নবাঙ্কুরের শিল্পীরা কয়টায় মঞ্চে উঠার সুযোগ পাবে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে করে মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শিশু শিল্পীদের নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করে চলে যান। যোহরের আজান শুরু হলে বর্ণালী সংগঠন তাদের পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করে মঞ্চ ত্যাগ করে। অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মঞ্চে অবস্থান করলেও সে সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় হঠাৎ করে যন্ত্রশিল্পীরা তাদের বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন।
যোহরের আজানের বিরতির পর বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা না থাকার পরও ধ্রুবতারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রকে মঞ্চে ডাকা হয় তাদের পরিবেশনার জন্য। মঞ্চে ধ্রুবতারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের শিশু শিল্পীদের আবৃতি পরিবেশনা চলাকালে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষের অনুপস্থিতিতেই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি রেজভী আল জামালী রঞ্জু জামালপুর লালন একাডেমীর শিল্পীদের গান পরিবেশনের জন্য মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু যন্ত্র শিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে রাখায় এবং যন্ত্র শিল্পীরা সেখানে উপস্থিত না থাকায় জামালপুর লালন একাডেমীর শিল্পীরা মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শিল্পীরা অনুষ্ঠান বর্জন করে সেখান থেকে চলে আসেন। এতে করে কোন ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়। জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি রফিকুজ্জামান মল্লিক বলেন, সাধারণত শিশুদের সংগঠনকে আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সকালে শোভাযাত্রা শেষ করে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বসে থাকায় তাদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। আমাদের পরিবেশনা কখন হবে বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কোন কর্ণপাত করেন না। তালিকায় নবাঙ্কুর কত নম্বরে তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে আসি। আমাদের সাথে কথা না বলে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা নিজেই তার ইচ্ছামত অনুষ্ঠান সূচি তৈরি করেছেন।
জামালপুর লালন একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজকের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের জন্য জামালপুর লালন একাডেমীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান সূচি বা কোন সংগঠনের পর কোন সংগঠন অংশ নিবে তা নিয়ে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। এমন সময় আমাদের মঞ্চে ডাকা হয় যখন কোন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী ছিলোনা এবং উল্লেখযোগ্য কোন দর্শক ছিলোনা। একারণে আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করি।
সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। সেই উপ-কমিটির সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। কোন কোন সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিবে তার তালিকা উপ-কমিটির তৈরি করার কথা ছিলো। কিন্তু উপ-কমিটির সদস্য সচিব জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে কারো সাথে কথা না বলেই তিনি নিজের ইচ্ছামত তালিকা তৈরি করেছেন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই যন্ত্র শিল্পীরা মঞ্চ ত্যাগ করা সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতা। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার আচরণে সংস্কৃতি কর্মীরা ভীষণ ক্ষুব্ধ।
এ ব্যাপারে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষ বলেন, আমি সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে বসে কথা বলেছি। কিভাবে অনুষ্ঠান সূচি তৈরি হবে সে সিদ্ধান্ত তারা দিয়েছে। এখন অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় কেউ কেউ বলেছে আমাকে আগে পরিবেশনা করতে দিন। এখন আমি কাকে ছেড়ে কাকে আগে দিবো? তাই দুইটি সংগঠন রাগ করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে গেছে। এখানে আমার কিছু করার ছিলো না। দুইটি সংগঠন অংশগ্রহণ না করায় ও বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের আরেকটি অনুষ্ঠান থাকায় তারা সেখানে চলে গেছে।






















