ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন আশায়, নতুন প্রত্যয়ে পহেলা বৈশাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন। পুরনো বছরের গ্লানি, হতাশা ও জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশায়, নতুন প্রত্যয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছরকে।

হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক এই দিনটি এখন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে পরিণত হয়েছে বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালি আজ একসঙ্গে মেতেছেন নববর্ষের আনন্দে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। বৈশাখের আগমন আমাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন উদ্যম।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বার্তায় বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক। কৃষি, প্রকৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে এ দিনের সম্পর্ক গভীর। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতা ও গ্রামীণ উৎসব আমাদের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে নতুন করে তুলে ধরে।

তিনি আরও জানান, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন এবং ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহায়তার মতো নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা এবং গ্রামবাংলা—সবখানেই চলছে বর্ষবরণের আয়োজন। নারী, পুরুষ ও শিশুরা রঙিন পোশাকে উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। কোথাও বসেছে বৈশাখী মেলা, কোথাও হচ্ছে লাঠিখেলা, বলিখেলা, হা-ডু-ডু ও লোকজ আয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে মোরগ, পায়রা, হাতি, ঘোড়া ও দোতারার মতো প্রতীকী মোটিফ।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানেও নতুন বছরের আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ বার্তায় সকাল থেকেই গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল পুরো এলাকা।

উদীচী, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।

নতুন বছরের এই প্রথম দিনে সবার প্রত্যাশা—বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি, গণতন্ত্র ও মানবিকতা। নতুন বছর বয়ে আনুক সুখ, সমৃদ্ধি ও স্বপ্নপূরণের আলো। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নতুন আশায়, নতুন প্রত্যয়ে পহেলা বৈশাখ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন। পুরনো বছরের গ্লানি, হতাশা ও জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশায়, নতুন প্রত্যয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছরকে।

হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক এই দিনটি এখন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে পরিণত হয়েছে বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালি আজ একসঙ্গে মেতেছেন নববর্ষের আনন্দে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। বৈশাখের আগমন আমাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন উদ্যম।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বার্তায় বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক। কৃষি, প্রকৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে এ দিনের সম্পর্ক গভীর। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতা ও গ্রামীণ উৎসব আমাদের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে নতুন করে তুলে ধরে।

তিনি আরও জানান, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন এবং ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহায়তার মতো নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা এবং গ্রামবাংলা—সবখানেই চলছে বর্ষবরণের আয়োজন। নারী, পুরুষ ও শিশুরা রঙিন পোশাকে উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। কোথাও বসেছে বৈশাখী মেলা, কোথাও হচ্ছে লাঠিখেলা, বলিখেলা, হা-ডু-ডু ও লোকজ আয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে মোরগ, পায়রা, হাতি, ঘোড়া ও দোতারার মতো প্রতীকী মোটিফ।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানেও নতুন বছরের আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ বার্তায় সকাল থেকেই গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল পুরো এলাকা।

উদীচী, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।

নতুন বছরের এই প্রথম দিনে সবার প্রত্যাশা—বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি, গণতন্ত্র ও মানবিকতা। নতুন বছর বয়ে আনুক সুখ, সমৃদ্ধি ও স্বপ্নপূরণের আলো। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!