ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছায়ানটের বর্ষবরণে বিশ্বশান্তির আহ্বান, নির্ভয় সমাজের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনার বটমূলে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি ও নির্ভয় সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…” দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের আয়োজনের মূল বার্তা ছিল ভীতি-মুক্ত, মানবিক সমাজ গঠন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাসী আজ আতঙ্কিত। এমন বাস্তবতায় নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবার প্রত্যাশা—শান্তি ও নিরাপত্তা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন এক সমাজ গড়ে উঠুক যেখানে সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন, শিল্পীরা স্বাধীনভাবে সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করতে পারেন এবং সংস্কৃতির সব ধারাই বাধাহীনভাবে বিকশিত হয়।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশের দিন। প্রায় ছয় দশকের ধারাবাহিকতায় এ দিনটি আত্মসমালোচনা ও নতুন প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়ে আসছে।

তবে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমে হামলা, শিল্পীদের ওপর নির্যাতন এবং অতীতের রমনা বটমূলের বোমা হামলার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে ২০০ জনের বেশি শিল্পী অংশ নেন। মোট ২৪টি পরিবেশনার মধ্যে সম্মেলক সংগীত, একক গান ও আবৃত্তি ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া ছায়ানটের এই আয়োজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনাকালে এটি ভার্চুয়ালি আয়োজন করা হলেও এবার আবারও সরাসরি সুর ও বাণীর মূর্ছনায় বরণ করা হলো নতুন বছর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছায়ানটের বর্ষবরণে বিশ্বশান্তির আহ্বান, নির্ভয় সমাজের প্রত্যাশা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনার বটমূলে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি ও নির্ভয় সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…” দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের আয়োজনের মূল বার্তা ছিল ভীতি-মুক্ত, মানবিক সমাজ গঠন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাসী আজ আতঙ্কিত। এমন বাস্তবতায় নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবার প্রত্যাশা—শান্তি ও নিরাপত্তা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন এক সমাজ গড়ে উঠুক যেখানে সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন, শিল্পীরা স্বাধীনভাবে সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করতে পারেন এবং সংস্কৃতির সব ধারাই বাধাহীনভাবে বিকশিত হয়।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশের দিন। প্রায় ছয় দশকের ধারাবাহিকতায় এ দিনটি আত্মসমালোচনা ও নতুন প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়ে আসছে।

তবে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমে হামলা, শিল্পীদের ওপর নির্যাতন এবং অতীতের রমনা বটমূলের বোমা হামলার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে ২০০ জনের বেশি শিল্পী অংশ নেন। মোট ২৪টি পরিবেশনার মধ্যে সম্মেলক সংগীত, একক গান ও আবৃত্তি ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া ছায়ানটের এই আয়োজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনাকালে এটি ভার্চুয়ালি আয়োজন করা হলেও এবার আবারও সরাসরি সুর ও বাণীর মূর্ছনায় বরণ করা হলো নতুন বছর।