ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমনায় বোমা হামলা: দুই যুগেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা, আইনি জটিলতা এবং আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বারবার থমকে যাচ্ছে।

২০০১ সালের পহেলা বৈশাখ ভোরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পরপর দুটি বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে। এ ঘটনায় সেদিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালে হত্যা মামলার রায় হলেও বিস্ফোরক মামলাটি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে বিচারাধীন। আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২১ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরপর থেকে আসামিদের ‘আত্মপক্ষ সমর্থন’ শুনানি শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও কারাগারে থাকা আসামিদের বিভিন্ন স্থানে অন্য মামলায় আটক থাকায় আদালতে হাজির করা যায়নি। এ অবস্থায় বিচারক তাওহীদা আক্তার আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও অতীতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে মামলাটি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। তবে এখন মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষ হলে দ্রুত রায় ঘোষণা সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ একাধিক আসামি রয়েছেন। বর্তমানে ৭ জন কারাগারে, ২ জন জামিনে এবং ২ জন পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের মক্কেলদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচার হলে তারা খালাস পাবেন।

দীর্ঘ দুই দশকেও বিচার শেষ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রমনায় বোমা হামলা: দুই যুগেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা, আইনি জটিলতা এবং আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বারবার থমকে যাচ্ছে।

২০০১ সালের পহেলা বৈশাখ ভোরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পরপর দুটি বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে। এ ঘটনায় সেদিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালে হত্যা মামলার রায় হলেও বিস্ফোরক মামলাটি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে বিচারাধীন। আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২১ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরপর থেকে আসামিদের ‘আত্মপক্ষ সমর্থন’ শুনানি শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও কারাগারে থাকা আসামিদের বিভিন্ন স্থানে অন্য মামলায় আটক থাকায় আদালতে হাজির করা যায়নি। এ অবস্থায় বিচারক তাওহীদা আক্তার আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও অতীতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে মামলাটি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। তবে এখন মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষ হলে দ্রুত রায় ঘোষণা সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ একাধিক আসামি রয়েছেন। বর্তমানে ৭ জন কারাগারে, ২ জন জামিনে এবং ২ জন পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের মক্কেলদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচার হলে তারা খালাস পাবেন।

দীর্ঘ দুই দশকেও বিচার শেষ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।