ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে এমপি ও বিএনপি নেতার দ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ভালুকায় মিল-ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির এক নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ বিরোধের জেরে এলাকায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ রোববার (১২ এপ্রিল) বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি ও গুলির ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে এই দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যের সমর্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা মিল-ফ্যাক্টরিগুলোর ঝুট ব্যবসা নিজেদের দখলে নিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বিএনপির একটি অংশ দাবি করছে, তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। বিএনপির ওই নেতা অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, তার বা তার পরিবারের কেউ ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু।

অপরদিকে, দলীয় মনোনয়ন না উপজেলা বিএনপির অপর অংশের নেতা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়েই, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দায়ে, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে ময়মনসিংহ দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত)পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

একই সময় একই অপরাধে তার অনুসারী উপজেলা বিএনপি, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকেও বহিস্কার করা হয়।

নির্বাচনে ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু জয়লাভ করেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সমর্থিত নেতা-কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরীতে মুর্শেদ আলমসহ তার গ্রুপের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রনে থাকা ঝুট ব্যবসা এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। রোববারের ঘটনাটিও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামিরদিয়া গ্রামের উপজেলা বিএনপির সদস্য খোকা মিয়া বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর পক্ষে ও তার ছেলে যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানা বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় নারিশ ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ছিল ছেলে যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানা নামে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই ব্যবসার নিয়ন্ত্রন চলে যায় বাবা খোকা মিয়া নামে। এর পর থেকেই বাবা খোকা মিয়া বিভিন্ন লোক মারফত তার ছেলেকে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে খোকা মিয়ার কারণে বাড়ির সামনে নিজের অফিসে বসতে পারছিলেন না ছেলে তোফায়েল আহাম্মেদ।

ঘটনার সময় তোফায়েল আহাম্মেদ লোকজন নিয়ে অফিসে বসেন। এ সময় তার বাবা লোকজন নিয়ে অফিস বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি এবং একাধিক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে।


এছাড়াও নির্বাচনের পর উপজেলার প্রায় বেশীর ভাগ মিল ফ্যাক্টরীর ঝুটের ব্যবসা এমপির সমর্থিত গ্রুপের নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। যেকটি মিল-ফ্যাক্টরীর নিয়ন্ত্রন নিতে পারেননি, সে গুলোকে কেন্দ্র করেই ঘটছে এসব সহিংসতা।

গত ১৬ মার্চ উপজেলা জামিরদিয়া এলাকার এস কিউ ষ্টেশানের “কালার মাস্টার” নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মোর্শদে আলমের লোকজন ওয়েষ্ট্রেজের মাল বের করার সময়, খোকা মিয়ার নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে গত ১৭ মার্চ মোরশেদ আলমসহ ৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নামে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সম্প্রতি একই এলাকায় রিদিশা স্পিনিং মিল থেকে ,মোর্শেদ আলমের লোকজন মাল বের করার সময় উল্লেখিত সংঘবদ্ধ গ্রুপ মিল গেইটে উপস্থিত হেয়ে বাঁধা দেয়। আমতলী এলাকার “কটন গ্রুপে” ঝুটের ব্যবসা করতেন হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবু সাঈদ জুয়েল। সম্প্রতি এমপি বাচ্চু নিজে ওই মিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আবু সাঈদ জুয়েলকে বাদ দিয়ে এমপির মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান পিন্টু র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সততা এন্টারপ্রাইজকে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করেছেন।

জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ির স্কয়ার ফ্যাশানের ওয়ার্ক অর্ডার ছিল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (বহিস্কৃত)আলহাজ শহিদুল ইসলামের নামে। এমপি ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু কারখানা কর্তৃপর্ক্ষকে বার বার সুপারিশ ও বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার ফলে, এমপির অনুকুলে ওয়ার্ক অর্ডার দিতে বাধ্য হন।

মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, আমি গত ২৫ বছর থেকে অদ্যাবদি যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথেই ব্যবসায় জড়িত ছিলাম, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করায়, তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের মালামাল সরবরাহ বা বের করতে চাইলে এমপি বাচ্চুর অনুসারী সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ ভাবে মিল গেইটে বাঁধা প্রদান করে আসছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু জানান, আমি এসব ঘটনার সাথে জড়িত নই। তিনি বলেন, কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারোও ব্যবসায় বাধা ও হুমকি প্রদান করেন, তাহলে এমন কথার স্পষ্ট প্রমান দিতে বলবেন। তিনি আরোও বলেন, আমি বা আমার পরিবারের কেউ এসব মিল ফ্যাক্ট্ররীর ঝুটের ব্যবসায় কখনো জড়িত নই।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গত ১৭ মার্চ তারিখে মোর্শেদ আলমের নামে রুজু হওয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববারের ঘটনা সর্ম্পকে জানান, ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভালুকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে এমপি ও বিএনপি নেতার দ্বন্দ্ব

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় মিল-ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির এক নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ বিরোধের জেরে এলাকায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ রোববার (১২ এপ্রিল) বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি ও গুলির ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে এই দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যের সমর্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা মিল-ফ্যাক্টরিগুলোর ঝুট ব্যবসা নিজেদের দখলে নিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বিএনপির একটি অংশ দাবি করছে, তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। বিএনপির ওই নেতা অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, তার বা তার পরিবারের কেউ ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু।

অপরদিকে, দলীয় মনোনয়ন না উপজেলা বিএনপির অপর অংশের নেতা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়েই, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দায়ে, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে ময়মনসিংহ দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত)পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

একই সময় একই অপরাধে তার অনুসারী উপজেলা বিএনপি, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকেও বহিস্কার করা হয়।

নির্বাচনে ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু জয়লাভ করেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সমর্থিত নেতা-কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরীতে মুর্শেদ আলমসহ তার গ্রুপের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রনে থাকা ঝুট ব্যবসা এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। রোববারের ঘটনাটিও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামিরদিয়া গ্রামের উপজেলা বিএনপির সদস্য খোকা মিয়া বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর পক্ষে ও তার ছেলে যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানা বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় নারিশ ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ছিল ছেলে যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানা নামে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই ব্যবসার নিয়ন্ত্রন চলে যায় বাবা খোকা মিয়া নামে। এর পর থেকেই বাবা খোকা মিয়া বিভিন্ন লোক মারফত তার ছেলেকে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে খোকা মিয়ার কারণে বাড়ির সামনে নিজের অফিসে বসতে পারছিলেন না ছেলে তোফায়েল আহাম্মেদ।

ঘটনার সময় তোফায়েল আহাম্মেদ লোকজন নিয়ে অফিসে বসেন। এ সময় তার বাবা লোকজন নিয়ে অফিস বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি এবং একাধিক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে।


এছাড়াও নির্বাচনের পর উপজেলার প্রায় বেশীর ভাগ মিল ফ্যাক্টরীর ঝুটের ব্যবসা এমপির সমর্থিত গ্রুপের নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। যেকটি মিল-ফ্যাক্টরীর নিয়ন্ত্রন নিতে পারেননি, সে গুলোকে কেন্দ্র করেই ঘটছে এসব সহিংসতা।

গত ১৬ মার্চ উপজেলা জামিরদিয়া এলাকার এস কিউ ষ্টেশানের “কালার মাস্টার” নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মোর্শদে আলমের লোকজন ওয়েষ্ট্রেজের মাল বের করার সময়, খোকা মিয়ার নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে গত ১৭ মার্চ মোরশেদ আলমসহ ৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নামে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সম্প্রতি একই এলাকায় রিদিশা স্পিনিং মিল থেকে ,মোর্শেদ আলমের লোকজন মাল বের করার সময় উল্লেখিত সংঘবদ্ধ গ্রুপ মিল গেইটে উপস্থিত হেয়ে বাঁধা দেয়। আমতলী এলাকার “কটন গ্রুপে” ঝুটের ব্যবসা করতেন হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবু সাঈদ জুয়েল। সম্প্রতি এমপি বাচ্চু নিজে ওই মিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আবু সাঈদ জুয়েলকে বাদ দিয়ে এমপির মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান পিন্টু র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সততা এন্টারপ্রাইজকে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করেছেন।

জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ির স্কয়ার ফ্যাশানের ওয়ার্ক অর্ডার ছিল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (বহিস্কৃত)আলহাজ শহিদুল ইসলামের নামে। এমপি ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু কারখানা কর্তৃপর্ক্ষকে বার বার সুপারিশ ও বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার ফলে, এমপির অনুকুলে ওয়ার্ক অর্ডার দিতে বাধ্য হন।

মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, আমি গত ২৫ বছর থেকে অদ্যাবদি যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথেই ব্যবসায় জড়িত ছিলাম, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করায়, তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের মালামাল সরবরাহ বা বের করতে চাইলে এমপি বাচ্চুর অনুসারী সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ ভাবে মিল গেইটে বাঁধা প্রদান করে আসছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু জানান, আমি এসব ঘটনার সাথে জড়িত নই। তিনি বলেন, কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারোও ব্যবসায় বাধা ও হুমকি প্রদান করেন, তাহলে এমন কথার স্পষ্ট প্রমান দিতে বলবেন। তিনি আরোও বলেন, আমি বা আমার পরিবারের কেউ এসব মিল ফ্যাক্ট্ররীর ঝুটের ব্যবসায় কখনো জড়িত নই।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গত ১৭ মার্চ তারিখে মোর্শেদ আলমের নামে রুজু হওয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববারের ঘটনা সর্ম্পকে জানান, ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।