ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়াচ্ছে নকলের নতুন ধারা: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের পাবলিক পরীক্ষায় নকলের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রচলিত পদ্ধতির বদলে এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে যশোর পিটিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডসহ খুলনা বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ সমালোচনা করছেন, কেউ উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক আগে যশোর সফরে এসে দুই ট্রাক গাইড বই জব্দ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা কমেনি, বরং আকার ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রয়োজনে ২০ ট্রাক গাইড বই জব্দ করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা-সম্পর্কিত ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

নকল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নকল করা তদারকির দুর্বলতারই প্রতিফলন। করোনাকালের মতো নকলের ধরনও বদলে গেছে এবং এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে, যার পেছনে মানসিকতার সমস্যা বড় কারণ।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি ঘটেছিল, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। অল্প পড়াশোনায় পাস বা ভালো ফল করার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকতাকে শুধু পেশা নয়, বরং ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হকও বক্তব্য দেন।

বক্তারা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক রাখতে জোর দেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সহনশীল পরীক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়াচ্ছে নকলের নতুন ধারা: শিক্ষামন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের পাবলিক পরীক্ষায় নকলের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রচলিত পদ্ধতির বদলে এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে যশোর পিটিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডসহ খুলনা বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ সমালোচনা করছেন, কেউ উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক আগে যশোর সফরে এসে দুই ট্রাক গাইড বই জব্দ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা কমেনি, বরং আকার ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রয়োজনে ২০ ট্রাক গাইড বই জব্দ করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা-সম্পর্কিত ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

নকল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নকল করা তদারকির দুর্বলতারই প্রতিফলন। করোনাকালের মতো নকলের ধরনও বদলে গেছে এবং এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে, যার পেছনে মানসিকতার সমস্যা বড় কারণ।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি ঘটেছিল, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। অল্প পড়াশোনায় পাস বা ভালো ফল করার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকতাকে শুধু পেশা নয়, বরং ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হকও বক্তব্য দেন।

বক্তারা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক রাখতে জোর দেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সহনশীল পরীক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।