পচা আলুর বিষক্রিয়া মাঠজুড়ে: নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন কৃষকরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
মাঠে ফসলের সবুজ স্বপ্ন এবার পরিণত হয়েছে গভীর হতাশায়। একদিকে বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া আলু, অন্যদিকে সেই জমিতে লাগানো ধানও পচে নষ্ট—জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কৃষকদের জীবনে যেন একের পর এক দুর্যোগ নেমে এসেছে।
কৃষক আব্দুল হামিদ বলছেন, জমি বর্গা নিয়ে ১৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বৃষ্টিতে আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষতি হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এরপর ঋণ করে আবার ধান রোপণ করলেও সেই ধানও পচে গেছে। এখন এনজিও ঋণের চাপে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জয়পুরহাট জেলা-এর কালাই উপজেলা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শত শত হেক্টর জমির আলু পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। সেই ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধানও আক্রান্ত হয়েছে পচা আলুর বিষক্রিয়ায়।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, জমিতে পচে যাওয়া আলু অপসারণ না করেই ধান রোপণ করায় মাটিতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে ধানের চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেছে, অনেক জমিতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে ফসল।
কৃষক রাজু আহম্মেদ ও আনু মিয়া-সহ অনেকেই জানান, ধারদেনা করে চাষাবাদ করেও এবার তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার চারা লাগানোর চেষ্টা করলেও সফল হতে পারছেন না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জৈব পদার্থ সঠিকভাবে পচে না গেলে মাটিতে গ্যাস ও বিষক্রিয়া তৈরি হয়, যা নতুন ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পচা আলু সরিয়ে কিছুদিন বিরতি দিয়ে চাষ করলে ক্ষতি কম হতো বলে মত দিয়েছেন তারা।
কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের আউশ আবাদে সহায়তা দেওয়া হবে এবং বীজ ও সার বিনামূল্যে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি শুধু ফসল হারানো নয়, বরং ঋণের বোঝা আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার নতুন চাপ।





















