আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (১৪ জুন) প্রকাশিত ৮০৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক মোড় এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুজাদ মিয়া।
রায় ঘোষণার আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি ছিল, অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের মক্কেলরা খালাস পাওয়ার যোগ্য।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।





















