যশোরে হাসপাতালের ভেতরেই চোরচক্রের দৌরাত্ম্য, ২০ দিনে ২১ চুরি-প্রশাসনের নজর কোথায়?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
যশোর জেনারেল হাসপাতাল এখন যেন অসহায় রোগীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। গত ২০ দিনে হাসপাতালটিতে অন্তত ২১টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অত্যন্ত দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ক্যাম্প, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং দেড় শতাধিক স্টাফ থাকা সত্ত্বেও চুরির এই ধারাবাহিকতা জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আর্তনাদে ভারী হাসপাতালের পরিবেশ: হাসপাতালের চত্বরে কান্নার শব্দ এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আজ ১২ জুলাই সকালেই বাঘারপাড়া উপজেলার মিনি বেগম এবং জীবননগর উপজেলার নাসিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশ বক্সে অভিযোগ করেন যে, তাদের যথাক্রমে ৩২শ’ টাকা এবং সাড়ে ছয় হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
১১ জুলাই রাবেয়া বেগম নামে এক নারী অভিযোগ করেন, তার সাড়ে ৪ হাজার টাকা খোয়া গেছে। এছাড়া মনিরামপুরের গুলশানারা বেগমের গলার সোনার চেইন ছিনতাই ও নিপা খাতুনের ৭ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা তো এখানে নিয়মিত ব্যাপার।
নিরাপত্তা বলয় বনাম বাস্তবতা: হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশাল এক বাহিনী মোতায়েন থাকে। যার মধ্যে রয়েছে:
জরুরি বিভাগের সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ ক্যাম্প ৩ সদস্য ও প্রতিদিন ডিউটি করা পুলিশ লাইনের ৩ জন সদস্য।এবং সাদা পোশাকে ডিএসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা নজরদারি।
হাসপাতালের নিজস্ব আউটসোর্সিংও স্বেচ্ছাসেবকসহ দেড় শতাধিক স্টাফ: এত জনবল থাকার পরও চুরির এই হিড়িক প্রশ্ন তুলেছে, দায়িত্ব পালনকারীদের নজরদারি কি তবে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ? নাকি চোর চক্রের সাথে কোনো অসাধু যোগসাজশ রয়েছে?
প্রশাসনের বক্তব্য: প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দ্বায় এড়ানো: এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুয়াইন সাফাত দায় এড়িয়ে বলছেন, হাসপাতাল বা বাস টার্মিনালে এমনটা ঘটে থাকে। তবে পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও জনসচেতনতার অভাবকেই তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ভিন্নমুখী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাজিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অবস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, চুরি প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রশাসনিক ভবন, জরুরি বিভাগ ও সিসিইউ-এর সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একে অপরের স্থানে ঘুরতে থাকবেন (পাহারা দেবেন)। তিনি আশা করছেন, এতে চুরির ঘটনা কমে আসবে, তবে একই সাথে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
নজরদারির ঘাটতি নাকি অবহেলা: যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা মানুষগুলো মূলত চিকিৎসার জন্য আসে, তারা থাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হচ্ছে একটি চোর চক্র। পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও, প্রশ্ন থেকে যায়—গত ২০ দিনে ২১টি চুরির ঘটনা প্রশাসনের গোয়েন্দা নজরদারি ও দায়িত্বরতদের ব্যর্থতারই স্পষ্ট প্রমাণ।
শুধু পুলিশের টহল বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) আরও বড়ানো এবং হাসপাতালের প্রবেশ পথে নিরাপত্তার কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব। জনগণ চায় কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবে চুরির ঘটনা বন্ধ হোক এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আপনি কি এই প্রতিবেদনের সাথে আরও কোনো বিশেষ তথ্য বা স্থানীয় জনগণের কোনো মন্তব্য যুক্ত করতে চাচ্ছেন?




















