ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে দড়াটানা মসজিদে দোয়া মাহফিল ৭ নভেম্বরের চেতনাই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ জাতীয় চার নেতার নাম বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে: নাহিদ ইসলাম হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৪ যমুনার দুর্গম চরে হেকমতের হুমকিতে অবরুদ্ধ পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে হয়রানি না থাকলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম: মাসুদুজ্জামান ঝালকাঠিতে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ

৭ নভেম্বরের চেতনাই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে পথ নির্ণয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি পালিত হবে। এ উপলক্ষে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর দাবি, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশকে কোনোভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অঙ্গীকার হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর পালনে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৭ নভেম্বরের চেতনাই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে পথ নির্ণয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি পালিত হবে। এ উপলক্ষে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর দাবি, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশকে কোনোভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অঙ্গীকার হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর পালনে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হওয়া উচিত।