ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশু-কিশোরদের মেধা-প্রতিভায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোট ও বিস্তর অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সার্ভিস চার্জ কার্ড চালু ৬৭ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি, ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে কড়াকড়ি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের’ দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আরিফ হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি, আটকা ৫০০ ট্রাক ডেঙ্গু: সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ৩২২ জনের প্রাণহানি জামালপুরে তামাক চাষ পরিহার করে বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কর্মশালা

শিশু-কিশোরদের মেধা-প্রতিভায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

খুলনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু পড়ালেখায় ভালো হলেই চলবে না; খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পারদর্শী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব পরিবেশনা প্রমাণ করে, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাতেও শিশু-কিশোররা দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।’

১৬ লাখের বেশি শিশুর অংশগ্রহণ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণকে দেশের সম্ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, আগামী জুনে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিযোগীরা অনলাইনে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ

শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না; বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

বেলুন-পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে এগিয়ে যান তারেক রহমান। তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাজারো শিশু-কিশোর। করতালি ও হাত নেড়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এতে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

১০ ইভেন্টে লড়বে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিশু-কিশোরদের মেধা-প্রতিভায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু পড়ালেখায় ভালো হলেই চলবে না; খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পারদর্শী হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব পরিবেশনা প্রমাণ করে, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাতেও শিশু-কিশোররা দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।’

১৬ লাখের বেশি শিশুর অংশগ্রহণ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণকে দেশের সম্ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, আগামী জুনে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিযোগীরা অনলাইনে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ

শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না; বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

বেলুন-পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে এগিয়ে যান তারেক রহমান। তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাজারো শিশু-কিশোর। করতালি ও হাত নেড়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এতে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

১০ ইভেন্টে লড়বে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।