এমপিও নথিতে জালিয়াতি, পীরগঞ্জ পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়েও প্রশ্ন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও-সংক্রান্ত কাগজপত্রে জালিয়াতি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহজাহান কবির বকুল ১৯৯৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন থেকে বিএড স্কেল গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও প্রথম এমপিও শিটে পরিবর্তন এনে বিএড স্কেলের কোড সংযোজন করা হয়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৫ সাল থেকেই তিনি টাইম স্কেল এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চতর স্কেল সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়েও বিতর্ক
এমপিও-সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যেই শাহজাহান কবির বকুলকে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এডহক কমিটির কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, তাঁরা তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার বিষয়ে জানতেন না এবং এ-সংক্রান্ত কোনো নথিতে তাঁদের স্বাক্ষরও নেই।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এমপিও নথিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে নেওয়া অর্থের হিসাব নির্ধারণ ও দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আক্তার বলেন, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন এমপিও নথিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ছিল কি না এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হবে।


























