ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলে ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন, সেখান থেকে অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীকে দিতে হবে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা কালেক্টরকে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা হিসেবে রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেছেন আদালত। শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। তার শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনালকে জানাতে বলা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের ওই শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় রশিদ মিয়া তাকে জানান, তার দাদি রশিদের বাড়িতে গেছেন। পরে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি।

পিপি জানান, ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। কিছুদিন পর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা।

২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় শিশুটি। এরপর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। আদালতের নির্দেশে মির্জাপুর থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়।

পরে ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগীর কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে রশিদ মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম শামীমুল আক্তার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন, সেখান থেকে অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীকে দিতে হবে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা কালেক্টরকে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা হিসেবে রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেছেন আদালত। শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। তার শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনালকে জানাতে বলা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের ওই শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় রশিদ মিয়া তাকে জানান, তার দাদি রশিদের বাড়িতে গেছেন। পরে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি।

পিপি জানান, ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। কিছুদিন পর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা।

২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় শিশুটি। এরপর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। আদালতের নির্দেশে মির্জাপুর থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়।

পরে ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগীর কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে রশিদ মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম শামীমুল আক্তার।