ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে গণপূর্ত কর্মচারীদের মানববন্ধন, ৯ দফা দাবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের ফাঁসি দুমকিতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচন নিয়ে সরকার কিছু জানে না, আলোচনা হয়নি: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ছবি, পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ—সবখানেই বলিউডের ছোঁয়া দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ নোয়াখালীর কাঠমিস্ত্রি কামাল দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে যা জানা জরুরি: কারা পাবেন, কারা পাবেন না অভিযোগের পাহাড়, তদন্তের প্রশ্ন: আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে খিদে পেলেই পেটে গুড়গুড় শব্দ? কারণ জানালেন গবেষকরা

মানবতাবিরোধী অপরাধ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের ফাঁসি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সারা দেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

উপর্যুক্ত কাজের মাধ্যমে আসামিরা হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেছে। যা একই আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মানবতাবিরোধী অপরাধ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের ফাঁসি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের ফাঁসি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সারা দেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

উপর্যুক্ত কাজের মাধ্যমে আসামিরা হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেছে। যা একই আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।