ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘খদর’-এ খাসি না থাকায় ভেঙেছিল বিয়ে, শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েই গেল ডিসেম্বরেই স্থানীয় সরকারের ভোট! প্রস্তুতিতে ইসি সিলেট সিটি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, বিএনপির ৬ ও জামায়াতের ৩ সম্ভাব্য প্রার্থী হজ-ওমরাহে গিয়ে ভিক্ষা বরা যাবে না, পাকিস্তানি নাগরিকদের সতর্কতা মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্যে ঢাকার ক্ষোভ, রাষ্ট্রদূতকে তলব শেষ পর্যন্ত সেই জামাল উদ্দিনও চলে গেলেন নিম্নচাপের প্রভাবে ৫ দিন বাড়তে পারে বৃষ্টি ‘পিংক বাস’ চালু, নারীদের যাতায়ানে নতুন স্বস্তি! সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরেই স্থানীয় সরকারের ভোট! প্রস্তুতিতে ইসি

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদকে ধাপে ধাপে ভোটের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই ভোট শুরু হতে পারে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পর ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

শীতকে সামনে রেখে ভোটের প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য শীতকালকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। সে হিসেবে ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য ভোট শুরুর সময় ধরে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইসির হিসাবে, বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ

তবে এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্রুত একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন।

দলীয় প্রতীক ছাড়াই ভোট

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন হিসেবে থাকছে দলীয় প্রতীক না থাকা। চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে না এবং দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কাউকে নির্বাচনে জিতিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। জনগণের আস্থা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হিসাব

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয়ের বড় অংশই যাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভোটে।

সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবে—

  • ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা
  • উপজেলা পরিষদে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা
  • সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা
  • পৌরসভায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা
  • জেলা পরিষদসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পরই নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পর এবার সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকারে ভোট ফেরানো। ডিসেম্বর থেকে ভোট শুরু হলে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আসার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তবে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পাশাপাশি অর্থসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে ইসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিসেম্বরেই স্থানীয় সরকারের ভোট! প্রস্তুতিতে ইসি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদকে ধাপে ধাপে ভোটের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই ভোট শুরু হতে পারে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পর ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

শীতকে সামনে রেখে ভোটের প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য শীতকালকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। সে হিসেবে ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য ভোট শুরুর সময় ধরে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইসির হিসাবে, বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ

তবে এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্রুত একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন।

দলীয় প্রতীক ছাড়াই ভোট

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন হিসেবে থাকছে দলীয় প্রতীক না থাকা। চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে না এবং দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কাউকে নির্বাচনে জিতিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। জনগণের আস্থা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হিসাব

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয়ের বড় অংশই যাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভোটে।

সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবে—

  • ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা
  • উপজেলা পরিষদে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা
  • সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা
  • পৌরসভায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা
  • জেলা পরিষদসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পরই নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পর এবার সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকারে ভোট ফেরানো। ডিসেম্বর থেকে ভোট শুরু হলে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আসার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তবে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পাশাপাশি অর্থসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে ইসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।