ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১-এ কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে যখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতেও। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার আলোচনা জোরালো হওয়ায় সামনে এসেছে তার নির্বাচনি আসন ঠাকুরগাঁও-১-এর সম্ভাব্য উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সাংবিধানিক নিয়মে তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। আর সম্ভাব্য সেই নির্বাচনকে ঘিরেই এখন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ—কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন?
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নাম। গত জাতীয় নির্বাচনে বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মির্জা ফখরুলের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচিতি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার মেয়েকে প্রার্থী করার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ মির্জা ফয়সল আমীনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার কারণে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে তার নামও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে দলীয় তৎপরতা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পারিবারিক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে পারিবারিক ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই বিএনপি নেতা রাজনীতিতে আসার পর ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। তার বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও ছিলেন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি ভূমিমন্ত্রী ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
এই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সম্ভাব্য উপনির্বাচন স্থানীয় বিএনপির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তবে এখনো সবকিছুই সম্ভাবনার পর্যায়ে। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে। তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে—পারিবারিক উত্তরাধিকার, নাকি দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা—কোন সমীকরণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বেছে নেবে বিএনপি?



















