ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে বিভেদ সৃষ্টির কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী কচুরিপানা-মুক্ত হচ্ছে টাঙ্গাইলের ডিসি লেক, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ইউনূস আমলের শিক্ষা গাজায় ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তি, ধাপে ধাপে সেনা সরাবে ইসরায়েল! নাসীরুদ্দীন-সারজিজের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা, পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হবিগঞ্জ কাঁচা মরিচের ঝাল বাজারে, কেজি ছুঁইছুঁই ৪০০ টাকা সান্তাহারে ভেজাল আইসক্রিম কারখানা সিলগালা অর্থের অভাবে হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দিল বসুন্ধরা আই হসপিটাল শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত, জানাল সংসদীয় কমিটি নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি

ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ইউনূস আমলের শিক্ষা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া এ সরকারকে ঘিরে শুরু থেকেই যেমন উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বিতর্ক, সমালোচনা ও অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে সরকারটির ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের দাবি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে রাজনীতির বাইরে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন বিলম্বিত করে ক্ষমতায় থাকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে জামায়াত ও এনসিপির জন্য রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, তবু অভিযোগগুলো জনপরিসরে গুরুত্ব পাওয়ায় সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারের ঘোষিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে এ ধরনের তদন্তের দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আসলে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি তদন্তের আওতায় আনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত—যে ধরনের সরকারই হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয়। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই প্রয়োগ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সরকারি নিয়োগ, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্য খাত, সরকারি ক্রয় এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ, কোথাও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, আবার কোথাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলো এখনো যাচাই হয়নি। তাই অভিযোগগুলো কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক বক্তব্য—সেটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা সম্ভব।

বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের কথাও জানা গেছে। এসব তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হলে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগও যাচাইয়ের দাবি রাখে। প্রমাণবিহীন অভিযোগ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রমাণ থাকলে সেগুলো উপেক্ষা করাও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মত দিয়েছেন, এসব চুক্তি বর্তমান সরকারের নীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা উচিত। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা; দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে তাই সবসময় সতর্কতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতে যদি আবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তাদের ক্ষমতার সীমা, দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি এবং জবাবদিহিতার কাঠামো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সে দৃষ্টিকোণ থেকেও অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ মূল্যবান হতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—যেকোনো তদন্তের উদ্দেশ্য প্রতিহিংসা বা চরিত্রহনন হওয়া উচিত নয়। তদন্ত হতে হবে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক এবং স্বচ্ছ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদেরও দায়মুক্তি দিতে হবে। এভাবেই আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সবশেষে বলা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কেবল অতীতের হিসাব-নিকাশের জন্য নয়; বরং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহিতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় নয়; বরং এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ইউনূস আমলের শিক্ষা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া এ সরকারকে ঘিরে শুরু থেকেই যেমন উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বিতর্ক, সমালোচনা ও অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে সরকারটির ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের দাবি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে রাজনীতির বাইরে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন বিলম্বিত করে ক্ষমতায় থাকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে জামায়াত ও এনসিপির জন্য রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, তবু অভিযোগগুলো জনপরিসরে গুরুত্ব পাওয়ায় সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারের ঘোষিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে এ ধরনের তদন্তের দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আসলে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি তদন্তের আওতায় আনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত—যে ধরনের সরকারই হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয়। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই প্রয়োগ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সরকারি নিয়োগ, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্য খাত, সরকারি ক্রয় এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ, কোথাও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, আবার কোথাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলো এখনো যাচাই হয়নি। তাই অভিযোগগুলো কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক বক্তব্য—সেটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা সম্ভব।

বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের কথাও জানা গেছে। এসব তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হলে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগও যাচাইয়ের দাবি রাখে। প্রমাণবিহীন অভিযোগ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রমাণ থাকলে সেগুলো উপেক্ষা করাও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মত দিয়েছেন, এসব চুক্তি বর্তমান সরকারের নীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা উচিত। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা; দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে তাই সবসময় সতর্কতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতে যদি আবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তাদের ক্ষমতার সীমা, দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি এবং জবাবদিহিতার কাঠামো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সে দৃষ্টিকোণ থেকেও অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ মূল্যবান হতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—যেকোনো তদন্তের উদ্দেশ্য প্রতিহিংসা বা চরিত্রহনন হওয়া উচিত নয়। তদন্ত হতে হবে আইনসম্মত, নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক এবং স্বচ্ছ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদেরও দায়মুক্তি দিতে হবে। এভাবেই আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সবশেষে বলা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কেবল অতীতের হিসাব-নিকাশের জন্য নয়; বরং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহিতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় নয়; বরং এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি।