বাংলাদেশে বিভেদ সৃষ্টির কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
পাহাড়-সমতল, ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজন সৃষ্টির কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয় কিংবা ধর্মের নামে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, তবে তা সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।
রাজনীতি ও ধর্মের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মের মূল ভিত্তি সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস, আর রাজনীতির ভিত্তি জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থ। কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রতীক দেবত্বপ্রাপ্ত নয়। জনগণ যতদিন কোনো রাজনৈতিক আদর্শকে নিজেদের কল্যাণে উপযোগী মনে করবে, ততদিনই সেটি টিকে থাকবে; অন্যথায় জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রকৃত ধর্মচর্চা তখনই সফল হবে, যখন মানুষ ধর্মের নামে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের চিনতে ও প্রতিহত করতে পারবে। তিনি বলেন, নিজের ধর্ম যথাযথভাবে পালন করলেই অন্য ধর্মের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি হয়। কোনো মহল যদি ধর্মীয় অনুভূতিকে সাম্প্রদায়িক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তবে ধর্মপ্রাণ মানুষকেই তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছি। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন— ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’”
বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার আগে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।





















