নাসীরুদ্দীন-সারজিজের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা, পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হবিগঞ্জ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন মামলার এজাহার জমা দেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
বাদীর দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ অন্যরা হামলা চালান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটের টুকরো দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও উল্লেখ করেছে দলটি।
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলাটি দায়ের হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিকে, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।





















