শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত, জানাল সংসদীয় কমিটি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত সরকার। দেশটির সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের সংসদে ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের করা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধটি প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চেয়ে যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আমলে নিয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত কমিটিকে জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অনুরোধও জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান দেশটির মানবিক নীতি এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ বা রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি হলো—দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের বিষয় আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।




















