ইন্টারনেট ছাড়াই মেসেজ আদানপ্রদান আরশোলা’দের! নেপথ্যে কোন প্রযুক্তি?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার পরও কীভাবে মেসেজ আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর কনট প্লেস ও যন্তর মন্তরের মতো এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পরও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদকারীরা প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে বলে নজরে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
পুলিশের ধারণা, বিশেষ কিছু অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এ ধরনের অ্যাপের ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছে দিল্লি পুলিশ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় মূল ভূমিকা রাখছে ব্লুটুথ লো এনার্জি (BLE) মেশ নেটওয়ার্ক। মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে স্মার্টফোনের ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করা যায়।
এই প্রযুক্তিতে একটি ফোন থেকে পাঠানো বার্তা সরাসরি অন্য ফোনে কিংবা একাধিক ডিভাইসের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারে। অনেকটা একটি চেইন বা জালের মতো কাজ করে এই মেশ নেটওয়ার্ক।
এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও গণবিক্ষোভে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে। ২০১৯ সালের হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ছাড়াও নেপাল, ইরান, উগান্ডা, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আন্দোলনে ইন্টারনেট ছাড়াই যোগাযোগের জন্য ব্লুটুথভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নজির রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ট্রাফিক বিশ্লেষণ করে এসব যোগাযোগ শনাক্ত করা যায় না।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনার পেছনে কোনো বড় ধরনের পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক তদন্তে পুলিশের অ্যান্টি-টেরর ইউনিটও কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ আইপিডিআর (ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিভাইস রেকর্ড), সিসিটিভি ফুটেজ এবং মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি (ফেসিয়াল রিকগনিশন) ব্যবহার করছে। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই দিল্লির বাইরে থেকে এসেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের জমায়েত বা যাতায়াতের বিষয়ে আগে কোনো তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


























