ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাংসের জন্য চুরি ৫ শতাধিক বিড়াল

বিবিসি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভিয়েতনামে বিড়াল চুরি ও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত একাধিক অভিযানে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে ৫ শতাধিক বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পোষা বিড়াল চুরি করে সংগ্রহ করত এবং পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত। গত সপ্তাহে তাই নিন প্রদেশ এবং হো চি মিন সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০০টির বেশি জীবিত বিড়াল, বরফে সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২১টি বিড়াল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ জুন হো চি মিন সিটিতে পোষা প্রাণী চুরির একাধিক অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে তারা গত তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল সংগ্রহ করে আসছিল।

তদন্তে জানা গেছে, চুরি করা প্রাণীগুলো নির্দিষ্ট সংগ্রহকেন্দ্রে রাখা হতো। এরপর প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর সেগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্রাণীর একটি অংশ মাংসের জন্য ব্যবহৃত হতো।

প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন Humane World for Animals জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণে কিছু প্রাণী উদ্ধার হওয়ার পরও মারা গেছে।

সংস্থাটি স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাণীগুলোর জন্য খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে প্রাণী বিক্রির ক্ষেত্রে উৎস ও মালিকানার বৈধ প্রমাণপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর উৎস এবং চক্রটির কার্যক্রম নিয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। যেসব ব্যক্তি তাদের পোষা প্রাণী হারিয়েছেন বলে মনে করেন, তাদেরকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাংসের জন্য চুরি ৫ শতাধিক বিড়াল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভিয়েতনামে বিড়াল চুরি ও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত একাধিক অভিযানে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে ৫ শতাধিক বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পোষা বিড়াল চুরি করে সংগ্রহ করত এবং পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত। গত সপ্তাহে তাই নিন প্রদেশ এবং হো চি মিন সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০০টির বেশি জীবিত বিড়াল, বরফে সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২১টি বিড়াল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ জুন হো চি মিন সিটিতে পোষা প্রাণী চুরির একাধিক অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে তারা গত তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল সংগ্রহ করে আসছিল।

তদন্তে জানা গেছে, চুরি করা প্রাণীগুলো নির্দিষ্ট সংগ্রহকেন্দ্রে রাখা হতো। এরপর প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর সেগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্রাণীর একটি অংশ মাংসের জন্য ব্যবহৃত হতো।

প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন Humane World for Animals জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণে কিছু প্রাণী উদ্ধার হওয়ার পরও মারা গেছে।

সংস্থাটি স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাণীগুলোর জন্য খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে প্রাণী বিক্রির ক্ষেত্রে উৎস ও মালিকানার বৈধ প্রমাণপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর উৎস এবং চক্রটির কার্যক্রম নিয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। যেসব ব্যক্তি তাদের পোষা প্রাণী হারিয়েছেন বলে মনে করেন, তাদেরকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।