ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি, দুদকের নজরে বেবিচকের প্রকৌশলী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি লাভের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অন্যান্য দায়িত্বশীল দপ্তরেও জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেবিচকে যোগদান করেন। পরবর্তীতে একাধিক পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শরিফুল ইসলামের বাবা মোশারফ হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখিয়ে একটি সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত ওই সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ধরনের সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক নয় এবং সনদটির বৈধতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মোশারফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছেও তথ্য চাওয়া হবে।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি বাতিলের পাশাপাশি প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি দুদক মামলারও আসামি। ওই প্রকল্পে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
























