এমপি বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়েই গ্রেপ্তার-পরিবারের দাবি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং তার বাসার কাছের একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তাদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীর ফোন পেয়ে সেখানে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১২ জুন বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার এক ঘনিষ্ঠ পরিচিত সংসদ সদস্য তাকে কাছের একটি শপিং মলে দেখা করার অনুরোধ জানান। তিনি সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে ওই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত কিছু নথি দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আটকের পর দুবাই পুলিশ তার ভিসা, দেশটিতে অবস্থানের বৈধতা এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
এদিকে, দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সেখানে পাঠানো হয়েছে। টানা সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে দুবাইয়ের আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুলিশ যদি তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করবেন। অন্যদিকে আদালতে হাজির না করা হলে প্রসিকিউশন দপ্তরে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমেদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনের ওপর। কেবল ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকলেই দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্ভব নয়; এর জন্য দুই দেশের আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে একাধিক দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।





















