ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীরকে ফেরাতে কাজ চলছে: জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) Benazir Ahmed-কে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা Zahed Ur Rahman।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর।

ব্রিফিংয়ে দিল্লির Indira Gandhi International Airport-এ নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। তবে বিমানবন্দরে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন মনে করেই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল আমি যেন প্রবেশ করি এবং নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিই। কিন্তু আমি মনে করেছি, আমাকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, আত্মমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “এটি শেখ হাসিনার সরকার নয়; এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। ভারতসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। রাষ্ট্রের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি এই সরকারের নেই।”

তিনি আরও বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে Ministry of Foreign Affairs Bangladesh।

উপদেষ্টা জানান, তিনি এখনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। তবে তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল, যা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার কথা। পুরো সময় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তার সঙ্গে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, “প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। তাই পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে ভবিষ্যতেও আমি ভারতে যাব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বেনজীরকে ফেরাতে কাজ চলছে: জাহেদ উর রহমান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) Benazir Ahmed-কে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা Zahed Ur Rahman।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর।

ব্রিফিংয়ে দিল্লির Indira Gandhi International Airport-এ নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। তবে বিমানবন্দরে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন মনে করেই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল আমি যেন প্রবেশ করি এবং নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিই। কিন্তু আমি মনে করেছি, আমাকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, আত্মমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “এটি শেখ হাসিনার সরকার নয়; এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। ভারতসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। রাষ্ট্রের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি এই সরকারের নেই।”

তিনি আরও বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে Ministry of Foreign Affairs Bangladesh।

উপদেষ্টা জানান, তিনি এখনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। তবে তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল, যা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার কথা। পুরো সময় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তার সঙ্গে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, “প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। তাই পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে ভবিষ্যতেও আমি ভারতে যাব।”