মোহাম্মদপুরে সক্রিয় ৫০টি অপরাধী চক্র, আতঙ্কে স্থানীয়রা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকাকে ঘিরে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়েছে—এখানে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৫০টি অপরাধী চক্র। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধে জড়িত এসব গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মাসে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচটি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে মোহাম্মদপুর থানায় সাড়ে চার হাজারের বেশি গ্রেপ্তারও হয়েছে, তবে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সম্প্রতি একের পর এক হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। চলতি মাসে বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন নিহত হন। এরপর সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় আরেকজন, আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল, কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত দুজনই এলাকায় পরিচিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশির দশক থেকেই মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘাত চলছে। সময়ের সঙ্গে শুধু গোষ্ঠীর নাম বদলেছে, কিন্তু সহিংসতা থামেনি। কেউ কেউ বলছেন, সন্ধ্যার পর এলাকা কার্যত আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়।
একজন বাসিন্দার ভাষায়, “দিনে স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নামলেই ভয় কাজ করে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হই না।”
অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক সরবরাহ ও আধিপত্য বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; অনেকেই সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘনবসতি ও এলাকার জটিল ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর মো. ইবনে মিজান জানান, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও ছোট অপরাধীরা বারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে মোহাম্মদপুরে দিনে ব্যস্ত শহুরে জীবন থাকলেও রাত নামলেই তৈরি হয় এক অদৃশ্য আতঙ্ক—যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে।



















