ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির খতিয়ান তলব, দুই আমলের অনিয়ম খুঁজছে সংসদীয় কমিটি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প, বদলাতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর পাঁচ রেকর্ড, ভাঙা কি অসম্ভব? রাতে দাঁতে তীব্র ব্যথা? চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যা করবেন একাদশে ভর্তি শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু ১২ নভেম্বর ভুটানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের ৭ নভেম্বর ছুটি পেলেন পোশাক শ্রমিকরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা, যেভাবে আবেদন করবেন শিশু-কিশোরদের মেধা-প্রতিভায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোট ও বিস্তর অভিযোগ

সংসারের চুলায় বাড়তি চাপ, বাড়ল এলপিজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটার পর একটা বাড়ছে খরচ—সংসারের হিসাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে ভেঙে পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম, যা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।

নতুন নির্ধারিত দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি—যা অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), আর সন্ধ্যা থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের শেষে যখন অনেকেই রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন দামের বাস্তবতা।

একজন গৃহিণীর জন্য এই বাড়তি খরচ মানে শুধু গ্যাসের বিল বাড়া নয়—বরং বাজারের অন্য খরচ কমিয়ে আনা, সন্তানের পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া, কিংবা মাসের শেষে কিছু টাকা বাঁচানোর স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি এখন এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। শহরের অনেক বাসায় পাইপলাইন গ্যাস না থাকায় এই সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে দাম বাড়ার প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। অর্থাৎ, এই এক সিদ্ধান্তের প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো অর্থনীতিতে—খাবার টেবিল থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাতায়াত পর্যন্ত।

এর আগের রাতেই যখন সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই মানুষ আশঙ্কা করছিল নতুন করে আরেক দফা চাপ আসতে পারে। সেই আশঙ্কাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

সংখ্যার হিসেবে এটি হয়তো একটি মূল্য সমন্বয়, কিন্তু বাস্তবে এটি হাজারো পরিবারের জন্য নতুন করে টিকে থাকার লড়াই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংসারের চুলায় বাড়তি চাপ, বাড়ল এলপিজির দাম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

একটার পর একটা বাড়ছে খরচ—সংসারের হিসাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে ভেঙে পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম, যা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।

নতুন নির্ধারিত দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি—যা অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), আর সন্ধ্যা থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের শেষে যখন অনেকেই রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন দামের বাস্তবতা।

একজন গৃহিণীর জন্য এই বাড়তি খরচ মানে শুধু গ্যাসের বিল বাড়া নয়—বরং বাজারের অন্য খরচ কমিয়ে আনা, সন্তানের পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া, কিংবা মাসের শেষে কিছু টাকা বাঁচানোর স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি এখন এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। শহরের অনেক বাসায় পাইপলাইন গ্যাস না থাকায় এই সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে দাম বাড়ার প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। অর্থাৎ, এই এক সিদ্ধান্তের প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো অর্থনীতিতে—খাবার টেবিল থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাতায়াত পর্যন্ত।

এর আগের রাতেই যখন সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই মানুষ আশঙ্কা করছিল নতুন করে আরেক দফা চাপ আসতে পারে। সেই আশঙ্কাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

সংখ্যার হিসেবে এটি হয়তো একটি মূল্য সমন্বয়, কিন্তু বাস্তবে এটি হাজারো পরিবারের জন্য নতুন করে টিকে থাকার লড়াই।