ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাতে ঘুম নেই, সকালে ক্লান্তি! ‘সার্কাডিয়ান ডিপ্রেশন’-এর লক্ষণ চিনবেন যেভাবে কৃত্রিম রুম ফ্রেশনার নয়, ঘর মাতুক ৬ সুগন্ধি ফুলের গাছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির আভাস, সমর্থন নেমে ৩৬ শতাংশে নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন শরীরী দৃশ্যে আপত্তি রশ্মিকার গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার শঙ্কা, সতর্কতায় কয়েকটি সাইট স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সেচ পাম্প সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যসচিব

হল ছাড়তে চাননা কুয়েট শিক্ষার্থীরা

খুলনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হল না ছাড়ার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়েট প্রশাসন তাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করেনি। আন্দোলন দমানোর জন্য তাদেরকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা কেউ হল ছাড়বেন না। ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েটের তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেদুজ্জামান শেখ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুযারি) সন্ধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নোটিশ দিয়ে এই নির্দেশনা জানিয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিচুর রহমান ভূঁঞা। বুধবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৯তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে আবারও তালা লাগাতে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাতে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ ঢাকা থেকে খুলনা ফিরে বাসভবনে অবস্থান নিয়েছেন এমন সংবাদে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা।

তারা উপাচার্যকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বাসভবন থেকে বের হয়ে যেতে সময় বেঁধে দেন। একইসঙ্গে উপাচার্যের বাসভবনে আবারও তালা ঝোলানোর ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা তালা না লাগিয়ে সেখান থেকে ফিরে যান।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরের পর থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়; এতে অর্ধশতাধিক আহত হন।

সংঘর্ষ এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রেলগেট, তেলিগাতিসহ আশপাশের বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সঙ্গে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নেয়।

রাতে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তারা পাঁচ দফা- বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং থাকলে আজীবন বহিষ্কারের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি; সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, বহিষ্কারসহ ব্যবস্থা নেওয়া; ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রাখা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় প্রশাসন থেকে বহন করা এবং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগের দাবি উত্থাপন করেন।

পরদিন বেলা ১টার মধ্যে দাবি পূরণের সময় বেঁধে দেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কুয়েটে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ওইদিন সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে প্রশাসনিক, অ্যাকাডেমিকসহ সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। তখন চিকিৎসাকেন্দ্রের দোতলায় ছিলেন উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকেই অনলাইনে যোগ দেন তিনি। সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাÐ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সেদিন উপ-উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে বলেছিলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা। আর জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে হলগুলো খোলা রাখা হয়েছে। তবে কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়।

এদিকে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করা হয়। তিন কর্মদিবসের মধ্যে সদস্যদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ তার বাসভবন ছেড়ে ঢাকায় রওনা দেন। উপাচার্যের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই ঢাকায় ছিলেন। এর আগে পদত্যাগের দাবির বিষয়ে উপাচার্য সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, আমরা যদি তাদের দাবিগুলো মেনে নেই, তাদের দাবির জন্য যদি সব ব্যবস্থা করি, তাহলে কেন আমাদের পদত্যাগ করতে হবে? আমরা তো তাদের দাবি অনুযায়ী সবকিছু করছি। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ঠিকমতো পরিচালনা করছি। আমরা চাচ্ছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় একটা নিয়মের মধ্যে আসুক।

২১ ফেব্রæয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এদিন বিকালে ‘রক্তাক্ত কুয়েট ১৮.০২.২৫’ শিরোনামে ছবি প্রদর্শনী করা হয়। ছাত্রকল্যাণ কেন্দ্রে এই প্রদর্শনীতে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি ও শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ভাড়া করা দুটি বাসে ৮০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে ঢাকায় রওনা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাদের চোখ লাল কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।

ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, এই ক্যাম্পাস তাদের জন্য নিরাপদ নয়। তারা এখানে নিরাপদ বোধ করছেন না। গেটগুলোতে কুয়েটের গার্ড ছাড়া কেউ নেই। বহিরাগত ব্যক্তিরা ‘অবাধে’ ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছে। এতে তারা খুবই আতঙ্কিত। প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবেন। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না পর্যন্ত তারা আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। সব দাবি পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ চলবে না। তাদের সব কার্যক্রম অনলাইনে চলবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানান।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে খান জাহান আলী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই মামলায় বিএনপি ও যুবদলের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষের দিন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছিলেন সেনাসদস্যরা। তাদের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। গত শুক্রবার তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান, খানজাহান আলী থানার ওসি কবীর হোসেন।

এদিকে খুলনা নগর বিএনপির গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তার চারজনকে তাদের ‘দলীয়’ দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হল ছাড়তে চাননা কুয়েট শিক্ষার্থীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হল না ছাড়ার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, কুয়েট প্রশাসন তাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করেনি। আন্দোলন দমানোর জন্য তাদেরকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা কেউ হল ছাড়বেন না। ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েটের তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেদুজ্জামান শেখ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুযারি) সন্ধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নোটিশ দিয়ে এই নির্দেশনা জানিয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিচুর রহমান ভূঁঞা। বুধবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৯তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে আবারও তালা লাগাতে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাতে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ ঢাকা থেকে খুলনা ফিরে বাসভবনে অবস্থান নিয়েছেন এমন সংবাদে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা।

তারা উপাচার্যকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বাসভবন থেকে বের হয়ে যেতে সময় বেঁধে দেন। একইসঙ্গে উপাচার্যের বাসভবনে আবারও তালা ঝোলানোর ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা তালা না লাগিয়ে সেখান থেকে ফিরে যান।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরের পর থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়; এতে অর্ধশতাধিক আহত হন।

সংঘর্ষ এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রেলগেট, তেলিগাতিসহ আশপাশের বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সঙ্গে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নেয়।

রাতে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তারা পাঁচ দফা- বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং থাকলে আজীবন বহিষ্কারের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি; সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, বহিষ্কারসহ ব্যবস্থা নেওয়া; ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রাখা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় প্রশাসন থেকে বহন করা এবং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগের দাবি উত্থাপন করেন।

পরদিন বেলা ১টার মধ্যে দাবি পূরণের সময় বেঁধে দেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কুয়েটে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ওইদিন সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে প্রশাসনিক, অ্যাকাডেমিকসহ সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। তখন চিকিৎসাকেন্দ্রের দোতলায় ছিলেন উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকেই অনলাইনে যোগ দেন তিনি। সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাÐ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সেদিন উপ-উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে বলেছিলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা। আর জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে হলগুলো খোলা রাখা হয়েছে। তবে কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়।

এদিকে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করা হয়। তিন কর্মদিবসের মধ্যে সদস্যদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ তার বাসভবন ছেড়ে ঢাকায় রওনা দেন। উপাচার্যের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই ঢাকায় ছিলেন। এর আগে পদত্যাগের দাবির বিষয়ে উপাচার্য সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, আমরা যদি তাদের দাবিগুলো মেনে নেই, তাদের দাবির জন্য যদি সব ব্যবস্থা করি, তাহলে কেন আমাদের পদত্যাগ করতে হবে? আমরা তো তাদের দাবি অনুযায়ী সবকিছু করছি। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ঠিকমতো পরিচালনা করছি। আমরা চাচ্ছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় একটা নিয়মের মধ্যে আসুক।

২১ ফেব্রæয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এদিন বিকালে ‘রক্তাক্ত কুয়েট ১৮.০২.২৫’ শিরোনামে ছবি প্রদর্শনী করা হয়। ছাত্রকল্যাণ কেন্দ্রে এই প্রদর্শনীতে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি ও শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ভাড়া করা দুটি বাসে ৮০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে ঢাকায় রওনা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাদের চোখ লাল কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।

ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, এই ক্যাম্পাস তাদের জন্য নিরাপদ নয়। তারা এখানে নিরাপদ বোধ করছেন না। গেটগুলোতে কুয়েটের গার্ড ছাড়া কেউ নেই। বহিরাগত ব্যক্তিরা ‘অবাধে’ ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছে। এতে তারা খুবই আতঙ্কিত। প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবেন। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না পর্যন্ত তারা আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। সব দাবি পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ চলবে না। তাদের সব কার্যক্রম অনলাইনে চলবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানান।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে খান জাহান আলী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই মামলায় বিএনপি ও যুবদলের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষের দিন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছিলেন সেনাসদস্যরা। তাদের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। গত শুক্রবার তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান, খানজাহান আলী থানার ওসি কবীর হোসেন।

এদিকে খুলনা নগর বিএনপির গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তার চারজনকে তাদের ‘দলীয়’ দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে।