ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮০ কোটি তরুণ বেকার হতে পারে, দারিদ্র্যে পড়তে পারে ১৩ কোটি মানুষ মন্ত্রীকে না জানিয়ে খাদ্যগুদাম পরিদর্শন, দায়িত্ব হারালেন এপিএস নিজের সন্তান নয়, তবু মৃত শাবককে বুকে আগলে ঘুরছে হাতি সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুই দিন আধা ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল, চলাচলে চরম ভোগান্তি প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, পেশিশক্তি দেখালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা কওমি মাদ্রাসায় ছেলেশিশু যৌন নির্যাতন: বারবার ঘটছে, থামানো যাচ্ছে না কেন? ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, অস্ত্রোপচারে বাদ দেওয়া হলো একাংশ সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কতটা?

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন টিউলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫ ২২৬ বার পড়া হয়েছে

টিউলিপ সিদ্দিক- ছবি: সংগৃহীত

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে নিজের নাম জড়ানোর পর পদত্যাগ করলেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে দিয়েছেন। মূলত খালার ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে বিনামূল্যে একাধিক সম্পত্তির মালিকানা পাওয়ার অভিযোগের পর চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন-

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমার প্রতি আপনি যে আস্থা প্রদর্শন করেছেন, তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মন্ত্রীদের মানদণ্ড বিষয়ক আপনার স্বাধীন উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমার স্বপ্রণোদিত আবেদন দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং আমার বর্তমান ও অতীত আর্থিক এবং বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে শেয়ার করার সুযোগ দিয়েছেন।

আপনি অবগত আছেন যে, আমার অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করার পর, স্যার লরি নিশ্চিত করেছেন যে, আমি মন্ত্রিত্ববিধি ভঙ্গ করিনি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমার মালিকানাধীন বা বসবাসকৃত সম্পত্তি বা আমার কোনো সম্পদ বৈধ উপায় ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

tulip letter

আমার পারিবারিক সম্পর্ক সর্বজনবিদিত এবং যখন আমি মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হই, তখন আমি আমার সমস্ত সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের তথ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছিলাম। কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের পর, আমাকে আমার স্বার্থপত্রে উল্লেখ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, আমার ফুপু বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয় থেকে (আমার) বিরত থাকা উচিত, যাতে স্বার্থের সংঘাতের কোনো সন্দেহ না থাকে। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এসব বিষয়ে আমি সর্বদা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থেকেছি এবং কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করেছি।

তবে, এটি স্পষ্ট যে অর্থনৈতিক সচিব হিসেবে আমার ভূমিকা সরকারি কাজের জন্য একটি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

আমার আনুগত্য সবসময় এই লেবার সরকার এবং তার জাতীয় পুনর্নবীকরণ ও রূপান্তরের কর্মসূচির প্রতি থাকবে। তাই, আমি আমার মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আপনার সরকারে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি পেছনে থেকে যে কোনোভাবে সরকারকে সমর্থন করতে থাকব।

শুভেচ্ছান্তে,
টিউলিপ সিদ্দিক এমপি

অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার সহযোগীদের ‘উপহার’ দেওয়া সম্পত্তিতে বসবাস করতেন। তবে টিউলিপ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি ‘কোনো ভুল করেননি’। যদিও কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনোচ সপ্তাহখানেক আগে কিয়ার স্টারমারকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন টিউলি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে নিজের নাম জড়ানোর পর পদত্যাগ করলেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে দিয়েছেন। মূলত খালার ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে বিনামূল্যে একাধিক সম্পত্তির মালিকানা পাওয়ার অভিযোগের পর চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন-

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমার প্রতি আপনি যে আস্থা প্রদর্শন করেছেন, তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মন্ত্রীদের মানদণ্ড বিষয়ক আপনার স্বাধীন উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমার স্বপ্রণোদিত আবেদন দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং আমার বর্তমান ও অতীত আর্থিক এবং বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে শেয়ার করার সুযোগ দিয়েছেন।

আপনি অবগত আছেন যে, আমার অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করার পর, স্যার লরি নিশ্চিত করেছেন যে, আমি মন্ত্রিত্ববিধি ভঙ্গ করিনি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমার মালিকানাধীন বা বসবাসকৃত সম্পত্তি বা আমার কোনো সম্পদ বৈধ উপায় ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

tulip letter

আমার পারিবারিক সম্পর্ক সর্বজনবিদিত এবং যখন আমি মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হই, তখন আমি আমার সমস্ত সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের তথ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছিলাম। কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের পর, আমাকে আমার স্বার্থপত্রে উল্লেখ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, আমার ফুপু বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয় থেকে (আমার) বিরত থাকা উচিত, যাতে স্বার্থের সংঘাতের কোনো সন্দেহ না থাকে। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এসব বিষয়ে আমি সর্বদা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থেকেছি এবং কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করেছি।

তবে, এটি স্পষ্ট যে অর্থনৈতিক সচিব হিসেবে আমার ভূমিকা সরকারি কাজের জন্য একটি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

আমার আনুগত্য সবসময় এই লেবার সরকার এবং তার জাতীয় পুনর্নবীকরণ ও রূপান্তরের কর্মসূচির প্রতি থাকবে। তাই, আমি আমার মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আপনার সরকারে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি পেছনে থেকে যে কোনোভাবে সরকারকে সমর্থন করতে থাকব।

শুভেচ্ছান্তে,
টিউলিপ সিদ্দিক এমপি

অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার সহযোগীদের ‘উপহার’ দেওয়া সম্পত্তিতে বসবাস করতেন। তবে টিউলিপ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি ‘কোনো ভুল করেননি’। যদিও কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনোচ সপ্তাহখানেক আগে কিয়ার স্টারমারকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।