ওমরাহ শেষে ফেরা হলো না দেশে, সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র মদিনা থেকে জেদ্দায় ফিরছিলেন তাঁরা। হয়তো দেশে ফেরা, স্বজনদের সঙ্গে দেখা কিংবা কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের পথে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই থেমে গেল সাত বাংলাদেশির জীবন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। হতাহত ১৩ জনই কক্সবাজারের তিনটি পরিবারের সদস্য।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে তিন পরিবারের ১৩ সদস্যকে বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ছয়জন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পাঠানো প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—জিয়াউর রহমান, তাঁর মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান; আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া এবং ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি। নিহতদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা, আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল, ইলিয়াস এবং গফুর আলম। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে, ইউসরা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে এবং ফয়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গফুর আলম রয়েছেন খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে। অন্যদিকে, আলম শাহ ও ইলিয়াস আল-হিমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতাল ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
কনস্যুলেটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। ট্রাফিক অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, টায়ার ফেটে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে কনস্যুলেট।
এই দুর্ঘটনায় নিহত আফসানা বিবি কয়েক দিন আগেই পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ওমরাহ শেষে ফেরার পথেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। অন্যদিকে, হতাহত তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চারজন আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন বলে কনস্যুলেটকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক সালমান।
একটি যাত্রা, তিনটি পরিবার আর মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে যাওয়া বহু মানুষের জীবন—সৌদি আরবের এই দুর্ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য রেখে গেল গভীর শোকের বার্তা। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।






















